প্রান্তিক মানুষের প্রতি সেবার মনোভাব নিয়ে এযুগেও চলছে দাতব্য চিকিৎসা। শ্রীমঙ্গলের কোরেশী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১৮ সালের ১৯শে জানুয়ারি থেকে শহরের মিশন রোডস্থ দেবনাথ ফার্মেসীতে পরিচালিত হচ্ছে দরিদ্র রোগীদের জন্য ‘ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক’।
শ্রীমঙ্গলের কৃতি সন্তান চিকিৎসক ডা. নাজেম আল কোরেশী রাফাত এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা এই ফাউন্ডেশনটিকে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।
কয়েকদিন আগে তার ক্লিনিকে আসেন ভাড়াউড়া চা বাগানের তারনি দোষাধ, পেশায় একজন দিনমজুর। ইট ভাঙার কাজ করে জীবিকা চলে। তাঁর স্বামী নাই চার/পাঁচ বছর। আছে ছোট এক কন্যা সন্তান, বাবা মারা গেলে সন্তানেরও পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। শিশুটি মায়ের সাথে ইট ভাঙার কাজ করে সহযোগিতা করে। হঠাৎ স্ট্রোক করে হাত-পা অবশ হয়ে যায় তারনির! তাঁর শরীরের জটিলতা দেখে এড়িয়ে যাননি বরং এগিয়ে এসেছেন ডা. রাফাত। তাৎক্ষণিক বিনামূল্যে সব চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করেন, নগদ অর্থ সহায়তাও দেন।
রোগী তারনির প্রতিবেশী, সমাজকর্মী বিষ্ণু রাজু বলেন, আসলে যার কেউ নাই তার ভগবান আছে। আর ভগবান ডাক্তার রূপে আমাদের ডাক্তার কোরেশী স্যার তার পাশে দাঁড়িয়ে একদম ফ্রিতে সেবা দিয়ে প্রমাণ করেছেন, যে আসলে উনি শ্রীমঙ্গলের মানবিক ডাক্তার! আমরা শ্রীমঙ্গলবাসী উনাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। ডাক্তার সাহেবের পিতা কোরেশী স্যার শহরে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন আর তাঁর ছেলে ডা. রাফাত, সত্যিই যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান হয়ে স্বাস্থ্যসেবায় চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
ডা. নাজেম আল কোরেশী রাফাত বলেন, ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিকের পাশাপাশি প্রতি বছর ফাউন্ডেশনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, এতিম ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়, সুন্নতে খতনা করানো হয়, বিনামূল্যে ক্রনিক ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের ঔষধ সরবরাহ করা হয়। কোভিড মহামারী চলাকালীন সময়েও কোরেশী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অসহায়দের ঔষধ সরবরাহ করেছি। বিভিন্ন সময় অসহায়দের জন্য সেলাই মেশিন তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। শীতের সময় দরিদ্রদের গরম কাপড় সরবরাহ করা আমাদের মানবিক দায়িত্ব হয়ে পড়ে।
ফাউন্ডেশনের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মাসব্যাপী বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান, অসহায়দের জীবিকা নির্বাহ, বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা, দরিদ্রদের খাদ্য ও বাসস্থান সামগ্রী সরবরাহ, দরিদ্র অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী প্রদান, দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, বন্যার সময় মেডিকেল ক্যাম্প, ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।








