আন্তর্জাতিক

সমুদ্র তলদেশের আগ্নেয়গিরিতে বিস্ফোরণ, এরপরে বিজ্ঞানীরা যা দেখলেন…

সমুদ্রের তলদেশে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ছবি, জল ও ধোঁয়া উড়ছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

সমুদ্রের তলদেশে একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ, জল ও ধোঁয়া উড়ছে, বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

পৃথিবীতে সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিশাল আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে একটি হলো দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের হুঙ্গা আগ্নেয়গিরি। ২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারিতে এই আগ্নেয়গিরিতে হওয়া এক বিস্ফোরণ বা অগ্ন্যুৎপাত বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের কাছেও অবিশ্বাস্য ছিল এই বিস্ফোরণ। এতে গ্রহের চারপাশে তৈরি হয়েছিল এক ‘শক ওয়েভ’। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প ছড়িয়ে পরে তা দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার সুইমিং পুল ভরাট করা যেত। বিজ্ঞানীরা এই রকম কিছু এরআগে কখনও দেখেননি।

এই বিস্ফোরণের ছাই এবং পানি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেক ৩৩ মাইলেরও বেশি উচ্চতায় পৌঁছে যায় বলে জানায় বিজ্ঞানীরা, যা এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সর্বোচ্চ। বিস্ফোরণটি ছিল আশ্চর্যজনক। পানি বায়ুমণ্ডলের এমন একটি স্তরে পৌঁছেছে যাকে বলা হয় ‘স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার’।

গবেষকরা ওই সময় আগ্নেয়গিরিতে হওয়া বজ্রঝড়ের ওপর পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পান যে, বজ্রঝড়টি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে তীব্র বজ্রপাতের জন্ম দিয়েছে। ঝড়টি প্রতি মিনিটে ২ হাজার ৬১৫টি বজ্রপাত তৈরি করেছিল, যা আগের রেকর্ড করা ৯৯৩টি বজ্রপাতের থেকে অনেক বেশি।

ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে এর আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ আলেক্সা ভ্যান ইটন বলেন, ১৫ জানুয়ারির এই ঘটনা আগ্নেয়গিরির বজ্রপাতের চরম সংস্করণের দিকে নিয়ে গেছে যা আমরা আগে কখনো দেখিনি। এই অগ্ন্যুৎপাতের সবকিছু খুবই আশ্চর্যজনক।

অগ্ন্যুৎপাতের প্রথম দিকে ঝড়টি ১৫০ মাইল প্রশস্ত বিদ্যুতের বিশাল বলয় তৈরি করেছিল। এতে বোঝা যায় যে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি বজ্রপাত সৃষ্টি করে।

ইটন বলেন, ছোট আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও বজ্রপাত সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু হুঙ্গা অগ্ন্যুৎপাত একটি সুপারচার্জড সংস্করণ ছিল। যখন পানির নিচের আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত করে, তখন এটি সমুদ্রের মধ্য দিয়ে ‘টর্রিড গলিত শিলা’কে উড়িয়ে দিয়ে জলীয় বাষ্পের একটি বিশাল স্তর তৈরি করে। এই বিস্ফোরণ অবশ্যই একটি চরম আবহাওয়া তৈরি করেছিল।

তিনি জানান, এই আগ্নেয়গিরির বজ্রপাত সমুদ্রের উপরে ১২ থেকে ১৯ মাইলের মধ্যে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বজ্রপাত। বায়ুমণ্ডলের এই অংশ যাকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলা হয়, সেখানে সাধারণত কোনো মেঘ থাকে না। কিন্তু হুঙ্গা বিস্ফোরণ সাময়িকভাবে এই অবস্থাকেও পাল্টে দিয়েছিল।

এটি সুনামির সূত্রপাত করেছে, বাড়িঘর ধ্বংস করেছে এবং প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই ধরণের একটি বিস্ফোরণ বিমানের জন্যও একটি বড় হুমকি তৈরি করে। ছাই হল আগ্নেয়গিরির শিলা, এবং যদি বিমানের ইঞ্জিনে এই ছাই প্রবেশ করে তাহলে তা ইঞ্জিনকে বন্ধ করে দিতে পারে বলেও জানান ইটন।

১৯৮৯ সালে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ‘ফ্লাইট জিরো জিরো নাইন’ আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যদি দক্ষ পাইলটরা পরে ইঞ্জিনগুলো পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়।

ইটন বলেন, যুগের পর যুগ ধরে, পৃথিবীর আগ্নেয়গিরি অবশ্যই আরও বড় ও আরও তীব্র ঘটনার জন্ম দিয়ে আসছে যা আমরা কখনো দেখিনি।

 

বিষয়:অগ্ন্যুৎপাত আগ্নেয়গিরি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর বজ্রঝড়

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…