শিক্ষা

ছাত্রীকে ফ্যানে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি দিলেন ইবি শিক্ষক

জনসমাগমের ছবি যেখানে অনেক মানুষ একত্রিত হয়েছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত ৭৩৭ জনের স্মরণে জনসমাগমের ছবি, যেখানে মানুষ সমবেত হয়ে শোক প্রকাশ করছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

ছাত্রীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকির অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর শিক্ষকের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লোগান শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক দাবি এক, হাফিজের পদত্যাগ’, ‘হাফিজের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘স্বৈরাচারের দোষর, হাফিজ হাফিজ’, ‘হাফিজকে হটাও, ডিএস বাঁচাও’, ‘হাফিজের ঠিকানা, ডিএস এ হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী লামিয়া বলেন, স্যার ক্লাসে এসে কী বলে অপমান করবে সেই ভয়ে কাটাতে হয়েছে। আমি কি ড্রেস পরলাম, কোথায় গেলাম, কার সাথে ঘুরলাম, কোন বাসে ঢাকা গেলাম সেসব কৈফিয়ত দিতে হয় আমাকে। আমাকে সবার সামনে বলছে যে আমাকে ফ্যানে ঝুলিয়ে পেটাবে। একজন শিক্ষকের কথাবার্তা কখনো এমন হওয়ার কথা নয়। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের অশ্লীল ভাষায় গালি দিতেও দুইবার ভাবেন না তিনি। যে স্যারের গুণগান গায় সে ইন্টার্নাল মার্কে পায় ২৭, আমি পাই ১৭। আমি বৃষ্টিতে ভিজে চা খাইলে সে বলে আমি নাকি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেছি। সে একজন শিক্ষক হয়ে সে সবার সামনে মেয়েদের গালি দেয়। আমি হাফিজের পদত্যাগ চাই, সে শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।

অপর শিক্ষার্থী অনন্যা রহমান বলেন, বাবা-মা তুলে গালি দেওয়া স্যারের আগের অভ্যাস। যারা নাচ করি তাদের নর্তকী, বাকিদের বাজারের মেয়ে এগুলো বলেছে। আমাদের সামনে আমাদের ফ্রেন্ডদের বলেছে এসব কাস্টমার ধরার ধান্দা। আমি আবার বন্ধুর সাথে কোথায় বসব না বসব, সেসব নিয়ে সে কুরুচিপূর্ণ কথা শুনিয়েছেন। সে আমাকে হেনস্তা করার জন্য ১০০ পেজের এসাইনমেন্ট করিয়েছে অথচ জমা নেয়নি। তার জঘন্য অপমানের ভাষা বলে শেষ হবে না।

এই বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেসব অভিযোগ তুলেছে সেগুলো সত্য হলে অবশ্যই প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু যেকোন বিষয়ের একটা পদ্ধতি আছে। আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি তাদের একটি প্রতিনিধি দল যেয়ে উপাচার্যের সাথে কথা বলতে। তারা চাইলে প্রশাসন অবশ্যই তাদের কথা শুনবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া শুনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের সকল অভিযোগ আমরা শুনেছি, এবিষয়ে খুব দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিষয়:ইবি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…