বিনোদন

ক্রাসনাহোরকাই– বেলা তার যুগলের সিনেমাটিক মহাকাব্য

দুটি পুরুষের ছবি, একজনের মুখে হাসি, অন্যজনের ভাবনা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রখ্যাত দুই ব্যক্তির ছবি, একটি পুরুষের মুখে হাসি, অন্যজনের ভাবনা প্রকাশ।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

সাহিত্যে নোবেলজয়ী হাঙ্গেরীয় লাসলো ক্রাসনাহোরকাই শুধু লেখক নন, তিনি সময়ের এক অন্তিম ভাষ্যকার। তাঁর গদ্য থেকে উঠে এসেছে ধ্বংস, নীরবতা ও মানুষের সীমারেখা অতিক্রমের গল্প। আর সেই গল্পই রূপ নিয়েছে দৃশ্যের ভাষায়, তাঁর আজীবনের বন্ধু বেলা তারের ক্যামেরায়।

সাহিত্য ও সিনেমা- এই দুই জগৎ যে খুব দূরের নয়, কখনো কখনো একই মেরুর; তার প্রায়শই প্রমাণ মেলে! হাঙ্গেরির দুই সৃষ্টিশীল মানুষ লাসলো ক্রাসনাহোরকাই ও বেলা তার প্রমাণ করেছেন, এরা আসলে একই নক্ষত্রের দুই আলোকরশ্মি!

একজন লিখেছেন পৃথিবীর শেষ দিনগুলো নিয়ে উপন্যাস, আরেকজন সেই উপন্যাসকে রূপ দিয়েছেন এমন সিনেমায়, যা সময়কে স্থির করে দেয়।

প্রকাশক ও লেখক একসঙ্গে আলোচনা করছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
লাসলো ক্রাসনাহোরকাই ও বেলা তার

২০২৫ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এর নাম উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মনে পড়ে ‘দ্য তুরিন হর্স’ এর কথা— যে চলচ্চিত্র পৃথিবীর শেষ নিঃশ্বাসের মতো ধীরে ধীরে নিভে যায়, কিন্তু দর্শকের মনে রেখে যায় অমোচনীয় ভার।

এই চলচ্চিত্রের পরিচালক বেলা তার এবং এর চিত্রনাট্যকার ছিলেন সদ্য নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ক্রাসনাহোরকাই নিজে। এই দুই শিল্পীর বন্ধুত্ব, পরস্পরের ভাবশক্তিতে মিশে থাকা আস্থা ও আধ্যাত্মিক সংলগ্নতাই তৈরি করেছে এক অনন্য সৃষ্টিকাব্য- যেখানে সাহিত্য ও সিনেমা পরস্পরের আয়না।

তুরিন হর্স সিনেমার একটি দৃশ্য

১৯৮৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বেলা তারের চলচ্চিত্রজীবনের শেষ তিন দশক প্রায় পুরোপুরি জুড়ে ছিল ক্রাসনাহোরকাইয়ের সাহিত্য। তাদের যৌথ কাজগুলো হলো— ড্যামনেশন (১৯৮৮), দ্য লাস্ট বোট (১৯৮৯), স্যাটানট্যাঙ্গো (১৯৯৪), রেকমেইস্টার হারমোনিস (১৯৯৭-২০০১), দ্য ম্যান ফ্রম লন্ডন (২০০৭) এবং ২০১১ সালে কালজয়ী সিনেমা ‘তুরিন হর্স’!

প্রতিটি চলচ্চিত্রে দেখা যায়, ক্রাসনাহোরকাইয়ের গদ্যের ভেতরের ধ্বংসস্তূপ, মানুষের ভাঙন, সময়ের ধীর গতি— সবই বেলা তারের ক্যামেরার ভাষায় নতুন জীবনে অনুবাদিত হয়েছে। দু’জনেই যেন একে অপরের ভেতরে বাস করতেন— একজন শব্দে, অন্যজন ছবিতে।

প্রযুক্তি ও ক্যামেরা সরঞ্জাম সহ একজন ব্যক্তি মাঠে কাজ করছেন।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
তুরিন হর্স এর শুটিং সময়ে বেলা তার

ক্রাসনাহোরকাইয়ের গদ্য অনেকেই বলেন, “অ্যাপোকালেপ্টিক রিয়েলিজম”, মানে এক বাস্তবতার ভেতরে ধ্বংসের চিহ্ন। বেলা তার এই দর্শনকে পর্দায় রূপ দেন! যেন প্রতিটি মুহূর্ত তার অস্তিত্বের ভারে থেমে যায়। স্যাটানট্যাঙ্গো এবং তুরিন হর্স তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

ক্রাসনাহোরকাইয়ের লেখার ছন্দে যেমন দীর্ঘ বাক্য, অনন্ত বর্ণনা, তেমনি বেলা তারের ক্যামেরা এক টানা লং টেকে সেই অভিজ্ঞতাকে দৃশ্যরূপ দেয়। দু’জনের কাজেই সময় কেবল একটি পরিমাপ নয়- যেন এক আধ্যাত্মিক যাত্রা।

নির্জন রাস্তায় একা মানুষ হাঁটছে, ছায়া পড়ে যাচ্ছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
রেকমেইস্টার হারমোনিস এর একটি দৃশ্য

‘দ্য তুরিন হর্স’–এর শেষে যখন ঘোড়াটি আর চলতে চায় না, আলো নিভে যায়, আর মানুষ থেমে যায়— তখন মনে হয়, ক্রাসনাহোরকাইয়ের উপন্যাসের পাতাগুলোর শব্দ যেন পর্দায় নীরব হয়ে জ্বলে উঠেছে।

তাদের সম্পর্ক এক প্রকার আত্মিক বন্ধুত্ব। বেলা তার একবার বলেছিলেন, “ক্রাসনাহোরকাই আমার দৃষ্টির ভাষা তৈরি করে দেন। আমি শুধু সেটিকে আলো-ছায়ায় অনুবাদ করি।” আর ক্রাসনাহোরকাই লিখেছিলেন, “বেলা তার আমার চরিত্রগুলোকে নীরবতার মধ্যে শ্বাস নিতে শেখান।”

এ যেন দুই শিল্পীর মধ্যে নীরব সংলাপ—যা সময়, ভাষা ও মাধ্যমের সীমা পেরিয়ে গেছে।

বিষয়:চিত্রনাট্যকার তুরিন হর্স দ্য তুরিন হর্স নোবেলজয়ী লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সিনেমা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…