চট্টগ্রাম থেকে: এবারের বিপিএলে যেন নিয়মিতই মেজাজ হারাচ্ছেন তামিম ইকবাল। রংপুর রাইডার্সের অ্যালেক্স হেলসের দিকে তেড়ে গিয়ে শুরু, বিতণ্ডায় জড়ান ঢাকা ক্যাপিটালসের সাব্বির রহমানের সাথেও। সবশেষ ফরচুন বরিশালের ইংলিশ সতীর্থ ডেভিড মালানের সঙ্গে রাগান্বিত হতে দেখা গেছে তামিমকে। সাবেক টাইগার ওপেনার বিষয়টি নিয়ে আগেই অবস্থান পরিস্কার করেছেন। এবার মুখ খুলেছেন ডেভিড মালান।
রোববার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ডেভিড মালানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়েছিলেন তামিম। এরপরই কিছুটা রাগান্বিত চাহনি দেখা গেছে তার চেহারায়। মালানকেও ওই সময় কিছু একটা বলতে শোনা যায়। তামিমের এমন আচরণ নিয়ে চলছিল আলোচনা। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তামিম জানিয়েছেন, মালানের সঙ্গে কিছুই হয়নি তার। একইদিনে মালান নিজেও একই কথা বললেন।
সোমবার চট্টগ্রামে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাবেক ইংলিশ ব্যাটার জানান, তামিমের সঙ্গে বিতণ্ডার বিষয়টির কোনো সত্যতা নেই এবং তামিম তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো কথা শোনাননি।
‘একদমই সত্য নয়, তামিমের সঙ্গে আমার কোনো রাগান্বিত কথা দূরে থাক, একে-অপরের সাথে কোনো কথাই হয়নি। আমি হাত তুলে বলেছিলাম সরি। তামিম পরে চলে গেল। আমি পরে বিপক্ষ দলের অন্য প্লেয়ারের সাথে কথা বলছিলাম। আমার সাথে ওর কোনো সমস্যা নেই। এরকম কোনো ইস্যু কখনো ছিল না, রাগ করে কোনো শব্দ বলিনি।’
‘আসলে আউটের পরে আমি হতাশ ছিলাম। প্রতিপক্ষের একজন ক্রিকেটার আউটের পর আমার কাছে এসে কিছু মন্তব্য করলো। আমি সেটার জবাব দিয়েছি। তবে সবাই মনে করছে তামিমকে আমি কিছু বলেছি। এটা পুরোপুরি মিথ্যা কথা। আপনি চাইলে পুরো দলকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন সবাই জানে।’
‘তামিম বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের বড় নাম। এজন্যই হয়তো যেকোনো ইস্যুতে মিডিয়া তামিমের নামটি জড়িয়ে খবর করে। কিন্তু সেদিনের বিষয়ে আমাকে নিয়ে মিডিয়াতে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে সেটার কোনো ভিত্তি নেই। তামিম বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেককিছুই দিয়েছে, জাতীয় দল থেকে অবসরের পর এখন সে ঘরোয়া ক্রিকেট উপভোগ করছে। আমরাও তার নেতৃত্ব উপভোগ করছি, মাঠের খেলায় তার পরিকল্পনাগুলোও দুর্দান্ত।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামিম বলেছেন, ‘মাঠে দুই ব্যাটসম্যানের ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাশা প্রকাশ করাও স্বাভাবিক। আমি রান আউট হওয়ার পরই মালান হাতের ইশারায় ‘সরি’ বলেছে। আমি সেদিকে তাকিয়ে মাঠের বাইরে চলে যাই। তার সঙ্গে কোনো কথাই হয়নি। কাছেই থাকা প্রতিপক্ষের একজন ফিল্ডার তখন মালানকে একটা কথা বলেছে, যা তার ভালো লাগেনি। মালান সেই ফিল্ডারকেই জবাব দিচ্ছিল, তার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। অথচ সেটাকেই অনেকে বানিয়ে ফেলেছে, আমার সঙ্গে নাকি মালানের ঝামেলা হয়েছে!’
‘অনেক সময়ই অনেকে টিভিতে দু-একটি দৃশ্য দেখে নানা রকম ধারণা করে ফেলেন। গত কয়েক দিনে আমাকে নিয়েও এরকম হয়েছে। কিন্তু কোনো ঘটনা তো হুট করে হয় না। এটার পেছনেও অনেক ঘটনা থাকে। মাঠে এরকম অনেক কিছুই হয়, যা টিভিতে পুরোপুরি ফুটে ওঠে না এবং সেটা উচিতও নয়।’








