মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত অভিবাসন আটক নীতি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত বলেছে, বাধ্যতামূলক আটক নীতির পক্ষে প্রশাসন কয়েক দশক পুরোনো আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করেছিল।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার ৩-০ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে নিউইয়র্কভিত্তিক ইউএস কোর্ট অফ আপিলস ফর দ্য সেকেন্ড সার্কিট-এর একটি প্যানেল এই সিদ্ধান্ত দেয়।
রায়ে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ফলে অভিবাসন অভিযানে আটক অধিকাংশ ব্যক্তিকে জামিন ছাড়াই বন্দি রাখা হচ্ছিল, যা আইনের সঠিক প্রয়োগ নয়।
প্যানেলের পক্ষে লিখতে গিয়ে ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক জোসেফ এফ বিয়াঙ্কো সতর্ক করেন, সরকারের এই ব্যাখ্যা বাস্তবায়িত হলে তা অভিবাসন ব্যবস্থায় ‘ভূকম্পীয় প্রভাব’ ফেলবে। এতে আটক কেন্দ্রগুলোতে চাপ বাড়বে, পরিবার বিচ্ছিন্ন হবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, ১৯৯৬ সালের ইললিগাল ইমিগ্রেশন রিফর্ম এন্ড ইমিগ্র্যান্ট রেসপনসিবিলিটি এক্ট অনুযায়ী এই বাধ্যতামূলক আটক নীতি বৈধ।
তবে আদালত বলেছে, সরকার আইনটির ‘স্পষ্ট ব্যাখ্যাকে বিকৃত করার চেষ্টা’ করেছে এবং এটি আইনের প্রেক্ষাপট, কাঠামো ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই নীতির আওতায় ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এমন অবস্থান নেয় যে, কেবল সীমান্তে আগত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই বসবাসরত অনেক অ-নাগরিককেও ‘প্রবেশের আবেদনকারী’ হিসেবে গণ্য করে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা হবে।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নীতির ফলে বহু অভিবাসী—যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ নেই—তাদের জামিনের আবেদনও নাকচ করা হচ্ছিল।
নিউইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইনজীবী অ্যামি বেলশার বলেন, আদালতের এই রায় প্রমাণ করেছে যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অভিবাসীদের আটক রাখা বেআইনি এবং সংবিধানবিরোধী।
এদিকে, ভিন্নমুখী কিছু আপিল আদালতের রায়ের কারণে বিষয়টি এখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট-এ গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতগুলোর মধ্যে এই বিভাজন চূড়ান্ত ব্যাখ্যার জন্য সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
সর্বশেষ এই রায়ে নিউইয়র্কের এক নিম্ন আদালতের আদেশও বহাল রাখা হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক ব্রাজিলীয় নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন।








