এবার মার্কিন পাসপোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। তবে সীমিত সংখ্যায় এই পাসপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে এই পাসপোর্ট চালু করা হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পাসপোর্টগুলো আগামী জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। যার জন্য আগামী জুলাই মাসে দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নকশাটিতে স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র এবং মার্কিন পতাকার বিভিন্ন উপাদানের পটভূমিতে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নকশায় প্রেসিডেন্টের সোনালি রঙের স্বাক্ষরও রয়েছে। অন্য একটি পৃষ্ঠায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষররত প্রতিষ্ঠাতাদের একটি চিত্র থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, “জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে চলেছে, এবং এই ঐতিহাসিক উপলক্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে পররাষ্ট্র দপ্তর সীমিত সংখ্যক বিশেষ নকশার মার্কিন পাসপোর্ট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
এই স্মারক পাসপোর্টগুলো ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে আবেদনকারী মার্কিন নাগরিকদের দেয়া হবে। গ্রীষ্মে এর বিতরণ শুরু হবে। যারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, মজুদ থাকা পর্যন্ত তা বিতরণ করা হবে।
বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টে দেশের ইতিহাস ও পরিচিতির বিভিন্ন দৃশ্য, যেমন চাঁদে অবতরণ এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো জাতীয় প্রতীক তুলে ধরা হয়। তবে নাগরিকরা চাইলে এই বিশেষ সংস্করণটি এড়িয়ে যেতে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই স্মারক পাসপোর্টটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর একটি, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও স্থাপনার সঙ্গে ট্রাম্পের নাম ও প্রতিকৃতি যুক্ত করা হচ্ছে।
পাসপোর্টের নতুন নকশা হলো ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সেইসব প্রচেষ্টার সর্বশেষ উদাহরণ, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন এবং সারা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগে নিজের নাম, ছবি বা স্বাক্ষর যুক্ত করা হচ্ছে।
এই ধরনের কিছু প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এই বছরের জাতীয় উদ্যানের পাসগুলোতে জর্জ ওয়াশিংটনের ছবির পাশে ট্রাম্পের ছবি রয়েছে, যা এই কর্মসূচির প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যের ওপর ঐতিহ্যবাহী মনোযোগ থেকে একটি বিচ্যুতি।
সম্প্রতি মার্কিন টাকশাল ইউএস মিন্ট ঘোষণা দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সংবলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মার্কিন ব্যাংকনোটে নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করা প্রথম প্রেসিডেন্টও হতে যাচ্ছেন তিনি।
মুদ্রার নতুন নকশার জন্য প্রস্তাবিত চিত্রকল্পে তার প্রতিকৃতির পাশাপাশি “লিবার্টি” এবং “ইন গড উই ট্রাস্ট”-এর মতো লেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মুদ্রার উল্টো পিঠে তাকে একটি আমেরিকান পতাকার সামনে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলতে দেখা যাবে এবং সাথে লেখা থাকবে “ফাইট ফাইট ফাইট”, যা পেনসিলভেনিয়ার বাটলারের একটি নির্বাচনী সমাবেশে ২০২৪ সালের একটি হত্যা প্রচেষ্টার পর তার ব্যবহৃত একটি স্লোগানের প্রতি ইঙ্গিত করে।
ট্রাম্প নিউইয়র্কের পেন স্টেশনের নাম তার নামে পরিবর্তন করার জন্য ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর চাক শুমারকে চাপ দিয়েছেন, এবং এই বিষয়টিকে ফেডারেল অবকাঠামো তহবিল ছাড়ের সাথে যুক্ত করেছেন, কিন্তু এই প্রচেষ্টা তেমন গতি পায়নি।
ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসির আশেপাশের সরকারি ভবনগুলোতেও লম্বা ব্যানারের আকারে নিজের মুখচ্ছবি লাগিয়েছেন।
এর আগে, এপ্রিলের শুরুতে হোয়াইট হাউস ‘আর্ক দ্য ট্রাম্প’ নামে স্বর্ণখচিত একটি বিশাল বিজয় তোরণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। তবে সাধারণ জনগণ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসেও স্থায়ী পরিবর্তন এনেছেন। একটি বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবনটির পূর্বাংশ (ইস্ট উইং) ভেঙে ফেলা হয়েছে।








