পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

ছবি সংগৃহীত
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন চালু করা হয়েছে। এতে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে। এদিকে, প্রদেশটির পিটিআই সভাপতি জুনায়েদ আকবর খান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদে জরুরি অবস্থা জারির এবং ২৩৪ অনুচ্ছেদে প্রদেশে গভর্নরের শাসন প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, রোববার দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জরুরি অবস্থা জারির সুপারিশ করা হয়। পরে তিনি সেই সুপারিশ অনুমোদন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এ সময় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃতভাবে সরে থাকার’ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এদিকে, কারাবন্দী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে গত ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীরা। শনিবার ছিল কর্মসূচির সপ্তম দিন। তবে ওই দিন পর্যন্ত লংমার্চটি প্রদেশটির মধ্যেই অবস্থান করছিল।
ইমরানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার প্রেসিডেন্ট ভবনে আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ওই বৈঠকের পর প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে পিটিআই। দলটির দাবি, জরুরি অবস্থা জারি কিংবা গভর্নরের শাসন প্রতিষ্ঠা করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।






