বিনোদন

‘সোলজার’ ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যাটারিং বিল বকেয়া লক্ষাধিক টাকা

‘সোলজার’ ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যাটারিং বিল বকেয়া লক্ষাধিক টাকা

শুটিং শুরুর বছর পার হলেও মুক্তি তো দূর, শুটিং-ই শেষ হয়নি লাফিং এলিফ্যান্টের ব্যানারে নির্মিতব্য সাকিব ফাহাদের সিনেমা ‘সোলজার’। বিগত এক বছরে দফায় দফায় শিল্পীদের শিডিউল নিলেও ছবির পরিচালক শুটিং শেষ করতে না পারায় এই সিনেমাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

অনেক শিল্পী নিজেরাও জানেন না আদৌ সিনেমাটি আর আলোর মুখ দেখবে কি না!

প্রতীক্ষিত এই সিনেমায় সুপারস্টার শাকিব খানের লুক প্রকাশ করেই শুরুতে চমকে দিয়েছিলেন সাকিব ফাহাদ। যে কারণে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ছিলো তুঙ্গে। পরে সিনেমাটিতে তানজিন তিশা, ঐশী, তৌকীর আহমেদ, তারিক আনাম খানের মতো অভিনেতা যুক্ত হওয়ার খবর শোনা যায়।

ঈদ সিজনের বাইরে সিনেমাটির মুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা। এরইমধ্যে কয়েক দফায় পরিবর্তন হয়েছে মুক্তির তারিখ। এ পর্যায়ে এসে কেউ কেউ ‘এই সিনেমার আশা ছেড়ে দিয়েছেন’!

এর মধ্যেই শিল্পী-টেকনিশিয়ানদের বকেয়া পারিশ্রমিক না দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা অনেকেই তাদের নায্য পারিশ্রমিক পাননি, পরিশোধে গড়িমসি করেছেন পরিচালক। এমনকি মেকআপ আর্টিস্ট থেকে শুরু করে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত গাড়ি ভাড়াও বাকি।

নির্বাহী প্রযোজক মৌমিতা হোসাইন অবশ্য এসব অভিযোগ নিয়ে বলেছেন, ‘শিল্পী-কলাকুশলীদের সম্মানী তো ছবির শুটিং শেষ হওয়ার আগে পরিশোধের বিষয় নয়। এখনও তো সিনেমার শুটিংই শেষ হয়নি।’

এর প্রেক্ষিতে কদিন আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টেকনিশিয়ান বলেন, এই সিনেমার জড়িত বেশিরভাগ মানুষের টাকা ক্লিয়ার করা হয়নি। আগে টাকা না দিলে কেউ নতুন করে সময় দিচ্ছে না। তারা বছর পার হলেও শুটিং শেষ করতে পারেনি। একে তো শুটিং কবে শেষ হবে ঠিক নেই, তারপরেও এক সিনেমার জন্য বসে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে। এই সিনেমার আশা ছেড়ে দিয়েছি।’

এসবের মধ্যেই নতুন করে জানা গেল, ‘সোলজার’ সিনেমার শুটিংয়ে খাবার সরবরাহ করা ধানমন্ডির ‘শেফ বাংলা ক্যাটারিং’-কে লক্ষাধিক টাকা বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। উল্টো পাওনা টাকা চাইলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ আনেন ক্যাটারিংয়ের কর্ণধার কমল আরেফিন বিজয়।

‘সোলজার’-এর লুকে শাকিব যেমন

চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেন,  আমরা বুম ফিল্মসের ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ শুটিংয়ে খাবার দেই। সেখান থেকে খাবার খেয়ে ‘সোলজার’র এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার ইয়াসির আরাফাত আমাদের ক্যাটারিং থেকে শুটিংয়ের জন্য খাবার অর্ডার করে।

তিনি বলেন,“প্রথম সাত দিন দুপুরে ৫০/৭০-এর খাবার অর্ডার পাঠাই, রাতে পেমেন্ট করে দিত। কথা ছিল শুটিংয়ের ৩৫ দিন আমরা খাবার সাপ্লাই দেব। এক সপ্তাহ পরে গতবছর অক্টোবরে পূর্বাচলের দিকে শুটিং ছিল। সেদিন দুপুর-রাত মিলিয়ে ৭০০ মানুষের খাবার অর্ডার ছিল। আমার স্টাফরা সঠিক সময়ে খাবার পৌঁছে দেয়। রাতে আমার ম্যানেজার ১ লাখ ১২ হাজার টাকা বিল চাইলে ইয়াসির আরাফাত তাকে বলে, ৭০০ মানুষের খাবার দেওয়া হয়নি। খাবার কম ছিল তাই বিল দেবে না। ম্যানেজার আমাকে জানালে ইয়াসিরকে ফোন করলে সে বলে, আপনার সাথে কথা বলবো না। খাবার কম আসছে, রাফ টোনে বলে, বিল দেব না, পারলে কি করবেন করেন। যদিও দেই, কম পাবেন। সময় দিতে হবে। “

এই ঘটনা বড় ভাই অমিকে জানান কমল আরেফিন। তার ভাষ্য,“সাথে সাথে আমার বড় ভাই কাজল আরেফিন অমিকে জানাই। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে চেয়েছিলাম। কারণ, পাওনা টাকা তো দেয় নাই, সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমরা যখন অর্ডার পৌঁছে দেই সবকিছু সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষণ করি। সব ডকুমেন্টস রেখে দিয়েছি। ব্যবস্থা নেইনি, কারণ অমি ভাই আমাকে নিষেধ করে বলেন, ‘যেহেতু মিডিয়াতে খাবার দিচ্ছো, কোনো ঝামেলা করার দরকার নাই। তাছাড়া এটা শাকিব খানের সিনেমা। ঝামেলা করলে রেপুটেশন নষ্ট হবে। সাকিব ফাহাদ আমার পরিচিত।’ তিনি কথা বলবেন সাকিব ফাহাদের সাথে। ভাইয়া যেখানে আমাকে বারণ করেছেন এজন্য আর কিছু বলি নাই। আমার ব্যবসার হকের ১ লাখ ১২ হাজার টাকা খাবারের এখনও দেয়নি তারা। রিসেন্ট নিউজে দেখলাম তারা সবার সাথে টাকা-পয়সা নিয়ে ঝামেলা করেছে। এজন্য ‘সোলজার’ টিমের প্রতারণা জানাতে বাধ্য হলাম।”

কমল আরেফিন বিজয় বলেন, কয়েকবছর ধরে ক্যাটারিংসহ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করছি। মিডিয়ার বিভিন্ন শুটিংয়ে খাবার দেই। কিন্তু কোথাও ‘সোলজার’ টিম যেভাবে প্রতারণা করেছে, তেমনটা কেউ করেনি। আমার হালাল ব্যবসা। এই পাওনা টাকার দাবি আমার অবশ্যই থাকলো।

‘সোলজার’ নির্মাতা সাকিব ফাহাদ

খাবারের বিল ১ লাখ ১২ হাজার টাকা না দেওয়ার অভিযোগে এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার ইয়াসির আরাফাতের যোগাযোগ করলে তিনি এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি। মুঠোফোনে জানান, এ ব্যাপারে কোনো কথা বলবেন না। পরিচালক সাকিব ফাহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এদিকে, নির্মাতা সাকিব ফাহাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেন তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই ব্যাপারে কাজল আরেফিন অমি বলেন, আমি শাকিব ভাইকে (শাকিব খান) পছন্দ করি। তার সাথে আমার সুসম্পর্ক। শুধুমাত্র ‘সোলজার’ শাকিব খানের সিনেমা বলে বিজয়কে ঝামেলা করতে বারণ করছিলাম। টাকার চেয়ে আমার কাছে প্রায়োরিটি ছিল শাকিব ভাই। অন্য কোনো ইস্যুই ছিল না। পরিচালক সাকিব ফাহাদ আমার পূর্ব পরিচিত। খাবারের বিলটা পরিশোধ করার জন্য সাকিব ফাহাদকে ভয়েস টেক্সট করেছিলাম। উনি কোনো উত্তর দেননি। আসলে যার রেপুটেশন নিয়ে কোনো চিন্তা নাই সে আর যাই হোক ভালো সিনেমা বানাতে পারবেন না। চারদিকে নিউজে যা দেখছি এসব অসততার জন্য সিনেমা ঝুলে গেছে।

বিষয়:কাজল আরেফিন অমি শাকিব খান শেফ বাংলা ক্যাটারিং সোলজার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…