বিনোদন

মুক্তিযোদ্ধার দাফন-জানাজায় বাধা, ক্ষোভে ফুঁসলেন সোহেল রানা

মুক্তিযোদ্ধার দাফন-জানাজায় বাধা, ক্ষোভে ফুঁসলেন সোহেল রানা

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার দাফন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নানা টানাপোড়েন শেষে শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুরে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে তাকে দাফন করা হয়।

মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন এবং পিরোজপুরে তাকে দাফন করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর দাফন-জানাজায় বাধা প্রদানের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা।

সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনায় তিনি লেখেন, একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাকে কবর দেয়ায় বাধা সৃষ্টি করল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং হারিকেন জ্বালিয়ে তার আলোতে আলোকিত করে তার কন্যা সন্তান নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করল।

সোহেল রানা আরও লেখেন, আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নাকি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। কোন আলামত তো দেখা গেল না।

ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সোহেল রানা লেখেন,“সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।”

নিজের উপলব্ধি তুলে ধরে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তারা হয়তো ব্যর্থ হয়েছেন। তার ভাষায়,“নইলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কোনটাই তো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।”

সবশেষে সোহেল রানা লেখেন,“না ফেরার দেশে চলে যাবার আগে এমনি ধরনের সংবাদ আমার মত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় শক্তি সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।”

বিষয়:দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মানিক পশারী সোহেল রানা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…