ফুটবল

সাকার হাতে কী এই ‘সক্রেটিস’ অ্যাওয়ার্ড

ব্যালন ডি’অর আয়োজন

সাকার হাতে কী এই ‘সক্রেটিস’ অ্যাওয়ার্ড

গতরাতে জমকালো আয়োজনে হয়ে গেল ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। প্রতিটি অ্যাওয়ার্ড পরিচিত হলেও বুকায়ো সাকার হাতে যাওয়া স্বীকৃতি নিয়ে বাড়তি কৌতূহল জন্মেছে। যার নাম সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড। দেয়া হয়েছে মানবসেবার কারণে।

কেন নাম সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড? কত বছর ধরে দেয়া হচ্ছে এ সম্মাননা? কেন সাকার হাতে উঠল এবারের পুরস্কার? খুঁজে দেখা যাক।

সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। ১১ ক্যাটাগোরিতে ১১ জন ব্যক্তিগত পুরস্কার পেয়েছেন,  ২টি ক্যাটাগরিতে দুটি ক্লাবকে দেয়া হয়েছে পুরস্কার। আর ছিল ‘সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড’।

মূলত ২০২২ সাল থেকে দেয়া হয় ‘সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড’। কোন ফুটবলারের সেরা মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি এটি। ফ্রান্স ফুটবল এবং পিস অ্যান্ড স্পোর্টের যৌথ উদ্যোগে পুরস্কারের নামকরণ হয়েছে প্রয়াত ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার সক্রেটিসের নামে। তিনি আশির দশকে ব্রাজিলে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ‘করিন্থিয়ান্স ডেমোক্রেসি’ আন্দোলনের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ২০২২ সালে সাদিও মানে প্রথম পুরস্কারটি হাতে তোলেন।

২০২৬ সালে যা উঠল ইংল্যান্ড তারকা সাকার হাতে। আর্সেনাল ফরোয়ার্ড অভাবী শিশুদের সহায়তায় করায় স্বীকৃতি পেলেন। তিনি জার্মান দানকেন্দ্রিক সংস্থা বিগশুয়ের সাথে যুক্ত হয়ে নাইজেরিয়া এবং আফ্রিকার কিছু দেশে শিশুদের অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থায়ন করেছেন। সহায়তা হার্নিয়া ও মস্তিষ্কের টিউমারসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও রোগে আক্রান্ত ১২০ জন শিশুর অস্ত্রোপচারে সাহায্য করেছে।

পুরস্কার হাতে সাকা রুয়ান্ডার ১৪ বছরের এক উঠতি কিশোরের গল্প শোনান। ইংলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে একটি চিরকুট ছিল, যেখানে একটি অভিজ্ঞতা লেখা ছিল, বিরিঙ্গিরো নামের ছেলেটি নিজের কথা তুলে ধরে সেখানে সাকাকে বলেছেন, ‘আমার বয়স যখন ১২ বছর, তখন দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করি। আমার গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। দৃষ্টিশক্তি যত খারাপ হতে লাগল, বাড়ির ভেতর চলাফেরা করাও আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ল। স্কুলে শিক্ষকরা ব্ল্যাকবোর্ডে যা লিখতেন, তা পড়তে পারতাম না। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে আমার খুব কষ্ট হতো। কেবল অন্যসব শিশুর মতোই স্বাধীনভাবে খেলতে চেয়েছিলাম।’

‘এরপর, বিগশু-এর সহায়তায় প্রয়োজনীয় চোখের চিকিৎসা পেলাম। আজ ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা পড়তে পারি, ক্লাসরুমের একদম শেষ বেঞ্চে বসেও! সবচেয়ে বড় কথা, এখন আর আমাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয় না। আবার শৈশবকে উপভোগ করতে পারছি। অনেকদিন পর, আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছি। বড় হয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হতে চাই।’

বিষয়:আর্সেনাল ইংল্যান্ড বুকায়ো সাকা ব্যালন ডি”অর সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…