৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতার প্রভাব: টানটান উত্তেজনায় ইসরায়েলের নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা বদলে দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনীতির হিসাব। সেই হামলার দায়, সামরিক অভিযানের সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে বিভক্ত ভোটারদের সমর্থন পেতে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা। নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তিকে সামনে রেখে ক্ষমতায় ফিরতে চান নেতানিয়াহু। অন্যদিকে, মধ্যপন্থী নেতা ও সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকট জবাবদিহি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড।
নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। প্রায় পাঁচ লাখ নতুন ভোটার এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারেন। তরুণদের সমর্থন পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে উগ্র ডানপন্থি দলগুলো। নিরাপত্তা, সামরিক শক্তি ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি তাদের প্রচারের প্রধান বিষয়।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান আইজেনকট নিজেকে নেতানিয়াহুর সংঘাতনির্ভর রাজনীতির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছেন। তার মতে, নির্বাচন শুধু নিরাপত্তা বা অর্থনীতির প্রশ্ন নয়, বরং ইসরায়েল ভবিষ্যতে কেমন রাষ্ট্র হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সুযোগ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তাব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা। তবে তদন্তের ধরন নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে।
অন্যদিকে, গাজা ও লেবাননে সামরিক অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারের প্রমাণ হিসেবে দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু ও তার সমর্থকেরা। তবে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য তার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভও রয়েছে। এ ক্ষোভের জেরে কিছু ভোটার আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকা উগ্র ডানপন্থি দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।
নির্বাচনে অতি-গোঁড়া ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং গাজার ভবিষ্যৎও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক প্রাণহানির বিষয়টিও রাজনৈতিক বিতর্কে প্রভাব ফেলছে।
তবে নির্বাচনে ভালো ফল করাই বিরোধীদের জন্য যথেষ্ট নয়। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে হবে তাদের। এ ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থন নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে বড় প্রশ্ন, ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতা নিয়ে জনরোষ কাটিয়ে সামরিক শক্তির যুক্তিতে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন কি নেতানিয়াহু?






