মানবজাতির শিক্ষার উদ্দেশ্যে কোরআন নাযিল হয়েছে। কোরআনের প্রত্যেক আয়াতেই রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়। আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনের তাগাদা অনুসারে একেকটি আয়াত নাযিল করেছেন, যাতে মানুষ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সবকগুলো কোরআন থেকে গ্রহণ করতে পারে।
কোরআনের শিক্ষা মানুষের মনন-মগজে অনুপ্রবেশ করাতে পাঠিয়েছেন একজন রাসূলও। তিনি শিখেছেন আল্লাহ হতে এবং শেখালেন মানুষকে। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কথায় ঝরত জ্ঞানের অবারিত ফল্গুধারা।
১৪০০ বছর আগে এমন এমন জ্ঞানের সন্নিবেশ তাঁর মধ্যে পৃথিবী দেখেছে, যা আজও পৃথিবীর বড়বড় বিজ্ঞানীকেও হার মানায়। মানুষ আজও তাঁর কথা নিয়ে বিপুল গবেষণা করছে। তাঁর কথার হেকমত বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। যুগের প্রয়োজনে কিংবা মানবতার চাহিদায় সবাই তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষার দিকেই ঝুঁকছে। এই শিক্ষার নামই কোরআন শিক্ষা। কেননা প্রিয় রাসূল যা বলতেন তা কোরআনের আলোকেই বলতেন। মূলত কোরআনের ব্যাখ্যাই তিনি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেন।
কোরআন শিক্ষা কথাটি ব্যাপক। আমরা একে কোনো কারণ ছাড়াই কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলি। বিশুদ্ধ তেলাওয়াত শিখার প্রয়োজন আছে। তা ছাড়া নামায সহীহ হয় না। অশুদ্ধ তেলাওয়াত করলে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের ভাগীদার হবার আশংকাও রয়েছে। তাই তেলাওয়াত বিশুদ্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এই কোরআন শিক্ষা কি কেবল তেলাওয়াতেই সীমাবদ্ধ? সীমাবদ্ধ তো নয়ই; বরং কোরআন শিক্ষা যতটা ব্যাপক সে অনুযায়ী তেলাওয়াত শিক্ষা তার আংশিক মাত্র। তাফসীর, উসুলে তাফসির, উলুমুল কোরআনসহ কোরআন বুঝার ক্ষেত্রে যত ধরণের জ্ঞানের প্রয়োজন, তার সবগুলোই কোরআন শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন হলো, এত জ্ঞান সাধারণ মানুষের পক্ষে অর্জন করা কি সম্ভব? অবশ্য কোরআন শিক্ষার এতসব জ্ঞান সবার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র মাদ্রাসা পড়ুয়ারাই এই ব্যাপক জ্ঞান ধারণ করতে পারেন। কিন্তু যারা মাদ্রাসায় পড়েন না, বা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তারা চাইলেই তাফসীরে ইবনে কাসীর কিংবা কানযুল ঈমানের মত কোরআনের যেকোন একটি গ্রহণযোগ্য তাফসীর গ্রন্থের অনুবাদ চর্চা করতে পারেন। এতেকরে কোরআনের ব্যাখ্যা কিছুটা হলেও বুঝে আসা সম্ভব।
তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, কোরআন নিয়ে যেন আমরা তর্কবিতর্ক না করি। কোরআনের জটিল জটিল বিষয়ে কথা বলার যোগ্যতা রাখেন একমাত্র এর ব্যাখ্যাকাররাই। কোনো কোনো কিতাবে এসেছে, কোরআনের ব্যাখ্যাকার হতে প্রায় ৩০ রকমের জ্ঞান ধারণ করা জরুরি। অতএব অল্পজ্ঞান নিয়ে তর্কে জড়াবার আগে কার কতটুকু জ্ঞান আছে, সেটাও ভাববার বিষয়।
আমাদের সমাজে কেউ একজন অল্প একটু অনুবাদ বই চর্চা শুরু করলেই কিছুদিনের মাথায় নিজেকে মহাজ্ঞানী হিসেবে জাহির করেন। এমন যাতে না হয়। তার কারণ, আপনাকে তাফসির চর্চার অনুমতি দেওয়া হয়েছে শিক্ষাগ্রহণের জন্যে; কারো সাথে তর্কে বিতর্কে জড়াবার জন্যে নয়। তাছাড়া প্রত্যেকের জানার যেমন সীমাবদ্ধতা আছে, তেমনই প্রত্যেকের বলার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আছে। কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে কোরআনের সেসব জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়, যা একজন আলেমের পক্ষে সম্ভব। অতএব আপনি সাধারণ মানুষ হয়ে যত অনুবাদ বইই চর্চা করুন না কেন, আপনাকে একথা খেয়ালে রাখতে হবে যে, কোরআন মাজীদের জ্ঞানের সমুদ্র হতে অল্প কয়েক ফোটাই আপনার অর্জন।










