মায়রা ও মায়রন দুই ভাইবোন।
তারা তাদের নানাভাইকে অনেক ভালোবাসে।
নানাভাইও তাদের খুব আদর করেন।
নানিকে তারা বুবাই বলে ডাকে।
ছুটির দিনে তারা নানাবাড়িতে গিয়ে খুব আনন্দ করে।
নানাভাই শুক্রবারে অফিসের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে তিনি বাসায় এসে নাতি-নাতনিকে নিয়ে খেলায় মেতে ওঠেন। তাদের নানা ধরনের গল্প শোনান। কুইজ খেলেন। ছোট্ট বল নিয়ে তাদের দিকে ছুড়ে মারেন। মায়রা আর মায়রনও নানাভাইয়ের সঙ্গে খেলা করতে ভালোবাসে।
একদিন সকালে বুবাই বাগানে ফুলগাছে পানি দিচ্ছিলেন।
মায়রা ও মায়রনও তার সঙ্গে বাগানে গেল। চারদিকে লাল, হলুদ, সাদা আর বেগুনি রঙের অনেক সুন্দর ফুল ফুটেছিল। ফুলের ওপর রঙিন প্রজাপতি উড়ছিল। আর তারা দুজনে খেলা করছিল বাগানে।
হঠাৎ একটি ছোট্ট মৌমাছি ভনভন শব্দ করতে করতে একটি ফুলের ওপর বসল। রঙিন ডানার মৌমাছি। মৌমাছিটিকে দেখে মায়রা অবাক হয়ে বলল, বুবাই, দেখো! কী সুন্দর ছোট্ট পাখি!
বুবাই হেসে বললেন, না নানুভাই, এটা পাখি নয়। এটাকে বলে মৌমাছি।
মায়রন জিজ্ঞেস করল, মৌমাছি এখানে কী করছে?
বুবাই বললেন, মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। সেই মধু দিয়ে তারা চাক বানায়। আমরা যে মিষ্টি মধু খাই, সেটি মৌমাছির অনেক পরিশ্রমের ফল।
মায়রা মন দিয়ে মৌমাছিটির কাজ দেখতে লাগল।
মৌমাছিটি এক ফুল থেকে আরেক ফুলে উড়ে উড়ে মধু সংগ্রহ করছে।
মায়রা বলল, এত ছোট্ট হয়েও কত পরিশ্রম করে!
বুবাই বললেন, হ্যাঁ, তাই আমাদের কোনো প্রাণীকেই কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। ছোট হলেও প্রত্যেক প্রাণীই পৃথিবীতে একটি বড় বড় কাজ করে।
মায়রা ও মায়রন নতুন একটি বিষয় শিখে খুব খুশি হলো।
তারা মনে মনে ঠিক করল, গাছ লাগাবে, ফুলের যত্ন নেবে এবং মৌমাছিসহ সব প্রাণীকে ভালোবাসবে।
বুবাই তাদের দুজনকে জড়িয়ে ধরে বললেন, প্রকৃতিকে ভালোবাসলেই প্রকৃতি আমাদের ভালোবাসবে।
সবাই তখন হাসতে হাসতে ঘরের দিকে ফিরে গেল।









