ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও চাপ বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে চীন, তুরস্ক, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ভারত। এসব দেশের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশই চীনে যায়। ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনেছে বলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে।
ফলে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে গেলে চীনের সঙ্গে তেহরানের তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পর্কও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে হতে পারে। তবে চীনের মতো বড় অর্থনীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দিলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার তুরস্ক ও ইরাক। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে দুই দেশের সঙ্গে ইরানের পণ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এই বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। কারণ সীমান্তবর্তী বাণিজ্য ইরানের অর্থনীতির পাশাপাশি এসব দেশের স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশেষ করে দুবাই ইরানের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইউএই থেকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনও বাধার মুখে পড়ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে ভারতের ইরানে রপ্তানিতেও পড়তে শুরু করেছে। একসময় ইরানের শীর্ষ পাঁচ বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে ছিল ভারত। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবু খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য এবং জ্বালানি বাণিজ্যে দুই দেশের সম্পর্ক রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভারত ইরান থেকে প্রায় ৭০৭ মিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করেছে। অন্যদিকে ইরানে ভারতের চাল, চা ও ওষুধ রপ্তানিও রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করাই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে চীন, ভারত, তুরস্ক ও ইউএইর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না। ফলে ইরানকে একঘরে করার মার্কিন পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এসব দেশ ওয়াশিংটনের চাপের কতটা কাছে যায় তার ওপর।









