চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
  • আরও
    • কর্পোরেট নিউজ
    • কৃষি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • মতামত
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

মক্কা চুক্তি কী: বাংলাদেশ কেন আগ্রহী, ভারত কেন অস্থির

আব্দুল্লাহ আল সাফি আব্দুল্লাহ আল সাফি
১২:২৫ অপরাহ্ণ ২৫, আগস্ট ২০২৬
- সেমি লিড, মতামত
A A

সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একটা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছেন গত ৭ আগস্ট। চুক্তিটির নাম ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’। ইরান যুদ্ধ চলার মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। সই হওয়ার কয়েক দিন পরেই তার আলোচনায় ঢুকে পড়ল বাংলাদেশের নাম, আর তাতে নড়েচড়ে বসল ভারত। প্রশ্ন উঠল, বাংলাদেশ কেন এই চুক্তিতে আগ্রহী, আর তাতে ভারতেরই বা এত অস্বস্তি কেন।

মক্কা চুক্তিতে কী আছে

চুক্তির মূল কথা সহজ। তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটাকে তিন দেশের ওপরই হামলা ধরা হবে, অনেকটা ন্যাটোর সেই আর্টিকেল ৫-এর মতো, যেখানে এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানে গোটা জোটের ওপর আক্রমণ।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্য হলো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একসাথে প্রতিরোধ গড়া। তবে কোন দেশকে শত্রু ধরা হচ্ছে, চুক্তির লেখায় সেই নাম নেই।

কে কী দেবে, সেটাও মোটামুটি ভাগ করা আছে। সৌদি আরব দেবে টাকা আর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে বিনিয়োগ, তুরস্ক দেবে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, আর পাকিস্তান দেবে সেনা আর যুদ্ধের মাঠের অভিজ্ঞতা। তুরস্কের বাইকার ড্রোন আর কান যুদ্ধবিমানের মতো সরঞ্জাম এখন বিশ্ববাজারেও চাহিদার তালিকায়। মোটকথা, এক দেশের যেখানে ঘাটতি, অন্য দেশ সেখানে এগিয়ে আসবে।

তবে চুক্তিতে যা নেই, সেটাও বোঝা দরকার। এই জোটের এখনো কোনো যৌথ সেনা সদর দপ্তরের কথা বলা নেই, নেই স্থায়ী কোনো যৌথ বাহিনী বা অভিন্ন বাজেট। আর আরেকটি বড় কথা, প্রয়োজন হলে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে সৌদি বা তুরস্ককে রক্ষা করার স্পষ্ট কোনো শর্ত এতে রাখা হয়নি। এই জায়গাটা নিয়েই বিশ্লেষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, কারণ অনেকেই মনে করছেন পারমাণবিক নিরাপত্তা এই চুক্তির আওতায় আসার সম্ভাবনা কম।

আরেকটা শর্ত চুক্তির চরিত্রটা পরিষ্কার করে দেয়। কোনো সদস্য দেশ যদি নিজে আগে আক্রমণ চালায় কিংবা নিজের মাটি অন্য দেশে হামলার কাজে ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে সে আর চুক্তির সুরক্ষা পাবে না। মানে এটা আক্রমণের জোট নয়, রক্ষার জোট। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক ন্যাটোর সাথে বেশি তুলনা টানতে চান না। ন্যাটোর পেছনে আছে সত্তর বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান আর পরীক্ষিত কমান্ড কাঠামো, অথচ মক্কা চুক্তি এখনো তেমন পাকা জোট হয়ে ওঠেনি। এটা এখন আলোচনা আর যৌথ মহড়ার একটা কাঠামো, তার বেশি কিছু নয়।

চুক্তির আলোচনায় কীভাবে বাংলাদেশ

চুক্তিটা হঠাৎ হয়নি, এর শুরু হয়েছিল আগের বছরই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রিয়াদে সৌদি আরব আর পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল, আর মক্কা চুক্তি সেটারই বড় সংস্করণ, যেখানে এবার যোগ হয়েছে তুরস্ক। কেন ঠিক এই সময়ে? কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব ইরানি ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে, আর ইয়েমেনের হুতিরাও একের পর এক তেল স্থাপনায় আঘাত হানছে। এতদিন উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করলেও সেই ভরসা এখন অনেকটাই কমে গেছে, তাই তারা নিজেরাই একটা নিরাপত্তা বলয় গড়ছে। চুক্তির দরজা খোলা রাখা হয়েছে, অন্য মুসলিম দেশ চাইলে পরে যোগ দিতে পারবে।

সেই সুযোগেই সামনে এসেছে বাংলাদেশের নাম। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দেশের স্বার্থের সাথে মিললে বাংলাদেশ এই অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যোগ দিতে আগ্রহী, আর এই নীতিকে তিনি বলছেন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তারেক রহমানের রিয়াদ সফর শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের আগ্রহটা কিন্তু একেবারে নতুন নয়। এর সপ্তাহখানেক আগেই বাংলাদেশ সৌদি নেতৃত্বাধীন আরেকটা জোটে নাম লিখিয়েছে, যার নাম ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। ৩০ জুলাই ঘোষিত সেই বহুজাতিক নৌ প্রতিরক্ষা জোট মক্কা চুক্তির চেয়ে আলাদা, কারণ এটা শুধু লোহিত সাগর আর বাব এল মান্দেব প্রণালির মতো সমুদ্রপথের নিরাপত্তার জন্য। ওই জোটেও বাংলাদেশ ১৪ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একটি।

এক মাসের ব্যবধানে একটা জোটে যোগ দেওয়া আর আরেকটার দিকে আগ্রহ দেখানো, দুটো মিলিয়ে ইঙ্গিতটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে উপসাগরীয় বলয়ের দিকে ঝুঁকছে।

বাংলাদেশের লাভ কোথায়

চুক্তিতে গেলে বাংলাদেশ কী পাবে? লাভের কয়েকটা দিক আছে, আর তার কিছু নমুনা এরই মধ্যে চোখের সামনে।

সবচেয়ে বড় জায়গাটা রেমিট্যান্স আর শ্রমবাজার। সৌদি আরব একাই বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি, আর উপসাগরের দেশগুলো মিলিয়ে সেখানে কাজ করেন লাখ লাখ বাংলাদেশি। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়লে নতুন শ্রমিক পাঠানোর আলোচনা সহজ হয়। একই সাথে বিপদের সময় সেখানে থাকা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও সৌদি সরকারের সাথে সহজে কথা বলা যায়।

দ্বিতীয় দিকটা বিনিয়োগ আর জ্বালানি। সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল এখন চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালাচ্ছে, যেখানে তারা প্রায় ১৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। সম্প্রতি তারা বে টার্মিনালসহ বাংলাদেশের বন্দর খাতে সব মিলিয়ে একশ কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের আগ্রহ জানিয়েছে। সৌদি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আকওয়া পাওয়ার আবার সোলার আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগে আগ্রহী। রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও পোক্ত হলে এমন বিনিয়োগের গতি বাড়তে পারে, আর তার সরাসরি সুফল পড়ে অর্থনীতি আর কর্মসংস্থানে।

তৃতীয় দিকটা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। তুরস্ক এখন ড্রোন আর সামরিক সরঞ্জামের বড় রপ্তানিকারক, আর বাংলাদেশ এরই মধ্যে তুরস্ক থেকে ড্রোনসহ কিছু সরঞ্জাম কিনেছে। জোটের ভেতরে থাকলে সেই প্রযুক্তি হাতে পাওয়ার পাশাপাশি যৌথ প্রশিক্ষণ আর মহড়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।

সবচেয়ে বড় কৌশলগত লাভ অবশ্য নির্ভরতা কমানো। একক কোনো প্রতিবেশীর ওপর নির্ভর না করে হাতে বিকল্প বন্ধু থাকলে বড় শক্তিগুলোর সাথে আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক শক্ত হয়।

তবে অন্য দিকটাও ভারী। এটা শুধু অর্থনৈতিক নয়, একটা প্রতিরক্ষা চুক্তিও, যেখানে কোনো এক সদস্য যুদ্ধে জড়ালে বাকিদেরও পাশে দাঁড়ানোর কথা। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির অবস্থায় সেই ঝুঁকি হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো একটা দেশের জন্য, যার সরাসরি কারও সাথে শত্রুতা নেই।

ভারত কেন অস্থির

ভারতের অস্বস্তির মূল কারণ দুই প্রতিবেশীর অবস্থান। পশ্চিমে পাকিস্তান আর পূর্বে বাংলাদেশ, দুই দিকেই যদি পাকিস্তানঘেঁষা নিরাপত্তা কাঠামো দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে ভারতীয় কৌশলবিদদের সামনে চলে আসে সেই পুরোনো দুই ফ্রন্টের দুশ্চিন্তা। একসাথে দুই সীমান্ত সামলানোর চাপ যেকোনো দেশের জন্যই বড় মাথাব্যথা।

সরকারি পর্যায়ে ভারতের ভাষা মেপে, কিন্তু ভেতরের অস্বস্তিটা স্পষ্ট। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রথমে শুধু বলেছিলেন, তারা পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছেন। পরের আরেক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ভারত এই চুক্তির প্রভাব নিজের জাতীয় নিরাপত্তা আর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার নিরিখে খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। কূটনীতির ভাষায় এমন মাপা বাক্যই বুঝিয়ে দেয়, বিষয়টা তারা মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়েও এ নিয়ে মুখ খোলা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে দিল্লির এক অনুষ্ঠানে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মক্কা চুক্তি ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ কি না। জবাবে তিনি চুক্তিটাকে খানিকটা হালকা করেই দেখান। তাঁর প্রশ্ন ছিল, তিন সদস্য দেশের প্রত্যেকের সামনেই এখন সরাসরি সামরিক পরিস্থিতি আছে, অথচ সেই পরিস্থিতিতে মক্কা চুক্তি বাস্তবে কী করতে পেরেছে। সঞ্চালক যখন মনে করিয়ে দেন যে সদস্যরা একে অন্যের পাশে দাঁড়ায়নি, জয়শঙ্কর বলেন, তাহলে তো উত্তরটা আপনি নিজেই দিয়ে দিলেন। তবে একই সাথে তিনি জানিয়ে দেন, ভারতের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয় এমন দেশগুলোর তৎপরতা তারা নিরাপত্তার হিসাবে ধরে রাখবে। মানে প্রকাশ্যে হালকা করে দেখালেও চুক্তিটা যে তাদের নজরে আছে, সেটা তিনি গোপন করেননি।

সরকারি মহলের বাইরে ভারতের কৌশলবিদরা আরও খোলাখুলি উদ্বিগ্ন। নয়াদিল্লির কৌশলগত মহলে চুক্তিটা নিয়ে একইসাথে অস্বস্তি আর সংশয় কাজ করছে, আর কেউ কেউ একে পাকিস্তানের বড় কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, এই চুক্তি ভারতকে একরকম কোণঠাসা করে ফেলে, কারণ এতে পাকিস্তান একসাথে চীন, তুরস্ক আর সৌদি আরবের সাথে বাঁধা পড়ে যায়।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গটাও ভারতের সংসদ পর্যন্ত পৌঁছেছে। শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বাংলাদেশের পাকিস্তান আর চীনমুখী হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন আর ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে মত দিয়েছেন। এতেই বোঝা যায়, বিষয়টা শুধু কূটনৈতিক দপ্তরে আটকে নেই, ভারতের রাজনৈতিক পরিসরেও পৌঁছে গেছে।

৫ আগস্ট ২০২৪এই অস্বস্তির আরেকটা বড় কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের বাস্তবতা। হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত ঢাকার সাথে দিল্লির সম্পর্ক ছিল অনেকটা একমুখী ঘনিষ্ঠতার, বাংলাদেশের অনেক বড় সিদ্ধান্তেই ভারতের প্রভাব কাজ করত। ৫ আগস্টের পর সেই সম্পর্ক আর আগের মতো নেই। নতুন সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে অনেক বেশি স্বাধীনভাবে চলছে, ভারতের বাইরে গিয়ে বিকল্প সম্পর্ক গড়ার কথা ভাবছে, আর মক্কা চুক্তি বা সৌদি জোটে আগ্রহ সেই বদলেরই স্পষ্ট উদাহরণ। দিল্লির কাছে এটা তাই শুধু একটা চুক্তির খবর নয়, প্রতিবেশীর ওপর নিজের কমতে থাকা প্রভাবের সংকেতও।

এর সাথে জমে আছে হাসিনা-পরবর্তী নানা টানাপোড়েন। ভারত এখনো শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠায়নি, আর সংখ্যালঘু প্রশ্নে দুই দেশ একে অন্যকে দুষে যাচ্ছে। তারেক রহমানের ভারত সফর হবে কি না, সেটাও এখনো ঝুলে আছে। এর ওপর বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিল্লির কাছে খানিকটা ঐতিহাসিক অস্বস্তিও বটে, কারণ ১৯৭১-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক অনেকখানি গড়ে উঠেছিল পাকিস্তান-বিরোধিতার ওপর। এই পুরোনো হিসাব বদলাতে দেখলে দিল্লির উদ্বিগ্ন হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তবে ভারতের সব কণ্ঠ এক সুরে বাজছে না। জেএনইউর অধ্যাপক মুদাসসির কামারের মতো কেউ কেউ মনে করছেন, এটা আসলে পুরোনো সৌদি-পাকিস্তান সম্পর্কেরই আনুষ্ঠানিক রূপ, নতুন করে আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। এই ভারসাম্যের সুরটাও মাথায় রাখা দরকার।

মক্কা চুক্তি কি ইসলামিক ন্যাটো হচ্ছে?

মক্কা চুক্তিকে অনেকে এরই মধ্যে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে ডাকছেন। নামটা বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে, তবে গঠনের মিলটা একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। প্রশ্ন হলো, জোট কি তিন দেশেই থামবে? দরজা খোলা থাকায় আরও দেশ আসতে পারে, আর কেউ কেউ এমনকি ইরানের কথাও বলছেন, কারণ ইরান নিজেও এই চুক্তিকে অঞ্চলের বদলে যাওয়া ভারসাম্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। তবে শিয়া-সুন্নি সমীকরণ আর সৌদি-ইরানের পুরোনো দূরত্ব পেরিয়ে ইরানের যোগ দেওয়া সহজ নয়, তাই এখনই কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা ঠিক হবে না।

এই আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে একটা কথা বলা যায়। বাংলাদেশ সামরিক শক্তিতে বড় নাম নয়, কিন্তু জোট মানে তো শুধু ট্যাংক আর যুদ্ধবিমান নয়। বাংলাদেশের হাতে আছে বিশাল জনশক্তি আর বঙ্গোপসাগর ঘিরে একটা কৌশলগত অবস্থান। তৈরি পোশাকসহ শিল্পের ভালো একটা কাঠামোও গড়ে উঠেছে, শিক্ষা আর গবেষণায় তরুণ প্রজন্ম ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, চীনের সাথে বাণিজ্যও বাড়ছে। এসব মিলিয়ে বড় কোনো জোটে বাংলাদেশ শুধু ছোট সদস্য নাও থাকতে পারে। এটা এখনো সম্ভাবনার আলাপ, তবে আলাপটা একেবারে অমূলক নয়।

শেষ কথা

বাংলাদেশ এখনো মক্কা চুক্তিতে সই করেনি, শুধু আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু কূটনীতিতে আগ্রহের ইঙ্গিতও অনেক সময় জোরালো বার্তা হয়ে ওঠে, আর দিল্লির মাপা ভাষা সেটাই প্রমাণ করে। লাভের হিসাব যেমন আছে, ঝুঁকির হিসাবও তেমন আছে, তাই দুটো পাশাপাশি রেখেই বাংলাদেশকে পা ফেলতে হবে।

সামনের কয়েক মাসে অনেক কিছু পরিষ্কার হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌদি আরব সফর কি হবে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক কোন গতিতে এগোবে, আর ভারত পাল্টা কী পদক্ষেপ নেবে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই বোঝা যাবে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

আপাতত এটুকু বলা যায়, দক্ষিণ এশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ও আত্ববিশ্বাসী একটি নাম।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: মক্কা চুক্তিমক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট
শেয়ারTweetPin
পূর্ববর্তী

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

পরবর্তী

মায়রা, মায়রন আর ছোট্ট মৌমাছি

পরবর্তী

মায়রা, মায়রন আর ছোট্ট মৌমাছি

টুর্নামেন্টের অভাব আর আর্থিক অনিশ্চয়তা প্রভাব ফেলছে দাবার বোর্ডে

সর্বশেষ

বঙ্গোপসাগরের নৌকা ডুবিতে নিউজিল্যান্ডের ৩ নাগরিক উদ্ধার, নিখোঁজ কিশোর

আগস্ট ২৫, ২০২৬

মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশ

আগস্ট ২৫, ২০২৬

বেআইনি না হলে গান, যাত্রা, নৌকা বাইচ বন্ধ কেন?

আগস্ট ২৫, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ

আগস্ট ২৫, ২০২৬

বাক স্বাধীনতায় বিএনপি সরকার বাধা দেবে না: তথ্যমন্ত্রী

আগস্ট ২৫, ২০২৬
iscreenads
চ্যানেল আই অনলাইন লোগো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ পোর্টাল. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT