এক সপ্তাহেরও কম সময়ে এডেন বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুর দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তারা। এ ছাড়া লোহিত সাগরের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল ও রিয়াদ অঞ্চলে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে জোটটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এসব ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো কারা ছুড়েছে, সে বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে তারা। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে এটি দ্বিতীয় হামলা। তবে হুতিরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
হামলায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে এডেনের নিরাপত্তা বিভাগ। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার সময় কায়রোগামী ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
শনিবার ভোরে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সা’দার পূর্বদিকে হামলার খবর প্রকাশ করে হুতিসমর্থিত গণমাধ্যম। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ওই এলাকায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সহায়তাকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, দেশটির মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাতও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ শুরু করে। দীর্ঘদিন অচলাবস্থা চলার পর ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা চলতি বছর পর্যন্ত টিকে ছিল।
সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে এডেন বিমানবন্দর ও অন্তর্বর্তী রাজধানীতে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদও রয়েছে।


