আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে হামলা, শিক্ষিকার বাধার পর হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে হামলা, শিক্ষিকার বাধার পর হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণিকক্ষে গুলি চালানো এক কিশোরকে থামাতে প্রথমে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়েন এক শিক্ষিকা। মেঝেতে ফেলে কিশোরটির কাছ থেকে শটগান কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় শ্রেণিকক্ষে ঢুকে এক পথচারী অস্ত্রধারী ওই কিশোরকে একাধিকবার গুলি করে হত্যা করেন। ওই হামলায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিবিসি নিউজ এই তথ্য জানায়।

দুই মেয়ের বাবা ওই ব্যক্তি বৃহস্পতিবার দুপুরে বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্কুলের গাড়ি পার্কিং এলাকায় এক সন্দেহভাজনকে গুলি ছুড়তে দেখেন তিনি। পরে ওই কিশোর একটি জানালা দিয়ে গুলি করে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সন্দেহভাজন ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোর আগে এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, থামানোর সময় কিশোরটির কাছে শটগানের আরও প্রায় ৪৪টি গুলি ছিল। শ্রেণিকক্ষে সে সর্বোচ্চ ১৫টি গুলি ছুড়েছিল।

বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ বলেন, “এত সহিংসতার মুখেও যারা সাহস দেখিয়েছেন এবং এগিয়ে এসে এই মর্মান্তিক ঘটনা আরও ভয়াবহ হওয়া থেকে ঠেকিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার বিষয়ে আরও তথ্য জানায় পুলিশ। এ সময় নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন পাঁচ বছর বয়সী রোয়াম সামার এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেঘান ল্যামবার্ট।

নিহত অন্য দুই শিক্ষার্থীর বয়স ছিল আট ও ১১ বছর। তাদের পরিবারের সদস্যরা আপাতত পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর অবস্থাও গুরুতর, তবে স্থিতিশীল।

পুলিশপ্রধান ক্রান্টজ বলেন, হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করা শিক্ষিকা এবং স্কুলের ভেতরে ঢুকে তাকে গুলি করা ওই বাবার সাহসী পদক্ষেপ অনেকের জীবন বাঁচিয়েছে।

তিনি জানান, হামলাকারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা শিক্ষিকা আহত হননি। তবে তার এই পদক্ষেপ “নিশ্চিতভাবেই আরও রক্তপাত ঠেকাতে সাহায্য করেছে”।

পুলিশ সন্দেহভাজন কিশোরের পরিচয় প্রকাশ করে জানায়, তার নাম গ্রিফিন জে জন দ্বিতীয়। বয়স ১৬ বছর। সে স্কুলটিতে বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশপ্রধান জানান, কিশোরটির বাড়িতে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে এবং সেখানে তল্লাশি চলছে।

পুলিশের ধারণা, কিশোরটি হেটে প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে এসেছিল। তবে সে ঠিক কীভাবে সেখানে পৌছেছিল এবং কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হামলার উদ্দেশ্যও এখনো স্পষ্ট নয়।

হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করা ওই বাবার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে কায়লুব জিয়ামাঙ্কোর পরিবারের সদস্যরা তাকেই হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

এনবিসি নিউজকে তার ভাই জানান, ৩৬ বছর বয়সী পেশায় কাঠমিস্ত্রি কায়লুব দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে স্কুলটির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সন্দেহভাজনকে স্কুলের বাইরে একটি গাড়িতে গুলি চালাতে দেখেন। এরপর ওই কিশোরকে একটি জানালা দিয়ে গুলি করে স্কুলে ঢুকতে দেখেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কায়লুবের গাড়িতে বৈধভাবে বহন করা একটি ০ দশমিক ৪০ ক্যালিবারের পিস্তল ছিল। তার ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পিস্তলটি নিয়ে হামলাকারীর পিছু নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশ বলেছে, কায়লুব ওই কিশোরকে একাধিকবার গুলি করেন, এতে তার মৃত্যু হয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে বসবাসকারী কায়লুবের মা কেন্ডা ফ্রিম্যান স্থানীয় সিবিএসের একটি চ্যানেলকে জানান, গুলির ঘটনার কয়েক মুহূর্ত পরই তার ছেলে তাকে ফোন করেছিল। সে তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল।

কেন্ডা ফ্রিম্যান বলেন, “সে বলেছিল, ‘একজন লোক আমার মেয়ের স্কুলে ঢুকেছে।’” এ কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এরপর তিনি বলেন, “সে শিশুদের গুলি করেছে। আর আমার ছেলে বলেছে, ‘আমি তার একেবারে সামনে ছিলাম, মা, আমি তাকে গুলি করে মেরে ফেলেছি।’”

তিনি আরও বলেন, “আমি তাকে বলেছিলাম, সে অনেকের জীবন বাচিয়েছে। তখন সে বলেছে, ‘মা, আমি সবাইকে বাঁচাতে পারিনি।’”

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ব্যক্তির সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তাকে ‘মহান বীর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

ট্রাম্প বলেন, “এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। তবে স্রষ্টাকে ধন্যবাদ, এমন একজন মানুষ ছিলেন, যার কাছে বন্দুক ছিল এবং যিনি সেটি ব্যবহার করতে জানতেন।”

ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করেই বলেন, তার সাহসী পদক্ষেপ আরও প্রাণহানি ঠেকিয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনার মানসিক প্রভাবও অনেক ভারী।

বিষয়:গুলি করে হত্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্কুল স্কুলে হামলা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…