ট্রাম্পের দলের পরাজয়ে কানাডায় স্বস্তি

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর কানাডায় স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। এ ফলাফল নিয়ে কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে ট্রাম্পের অতীতের বক্তব্য এবং কানাডার পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে তাই অনেক কানাডীয় নাগরিক ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের নীতির ওপর জনগণের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম, ইরান যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দর কমেছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডলারের সূচক ০.৩ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৪-এ নেমে আসে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। ৪ নভেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে নির্বাচনের ফলাফলের পর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার সকালে কানাডার টরন্টো স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর ফিউচার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন, বাজেট ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। এতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ কিছুটা সীমিত হতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকায় কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য, শুল্কনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাণিজ্যনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
কানাডীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনের এই ফলাফল দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমাতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাত কমে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলেও আশা করছেন অনেকে।






