বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ঘোষণা, যেভাবে হবে নিয়োগ

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ঘোষণা, যেভাবে হবে নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

দেশটির কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেল, ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতিও দিয়েছে দেশটি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় কার্যকর করা, বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে কর্মী নির্বাচন করতে পারবে।

যেভাবে চলবে নিয়োগ প্রক্রিয়া
নতুন ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হবে। প্রথমে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে জব অর্ডার সংগ্রহ করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা দেবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী কর্মীদের বিএমইটি (BMET) ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জব অর্ডার সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচনকারী অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের মাধ্যমেই কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র সম্পন্ন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেবে।

সরকারের লক্ষ্য, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় রাখা।

১০ হাজার কর্মী যাবেন শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে দেশটির নীতিগত সম্মতির কথা জানিয়েছে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নতুন জব অর্ডার সংগ্রহ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা এবং কর্মীদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী নিয়োগের বাস্তবায়ন পদ্ধতি, সময়সূচি ও আবেদনপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মেডিকেল সেন্টার অনুমোদনে নতুন উদ্যোগ
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে মেডিকেল সেন্টারগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। তবে শ্রমবাজার দ্রুত চালুর স্বার্থে মালয়েশিয়ার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করবে। নতুন কোনো কেন্দ্র অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় থেকেও তালিকা জানানো হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো মেডিকেল সেন্টারে অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া নতুন অনুমোদিত কেন্দ্র যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।

শ্রমবাজার পুনরায় চালুতে সরকারের অগ্রাধিকার
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৪২৩টি এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের সরকারের ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন নিয়োগব্যবস্থার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং কর্মীদের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা কমবে।

মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানানো হয়েছে। সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি ও কর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগে দেশটিতে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিষয়:প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাংলাদেশি বোয়েসেল মালয়েশিয়া শ্রমবাজার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…