জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনা বিশেষজ্ঞের সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে। আর এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের অভিযোজন সক্ষমতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের নগর পরিকল্পনাবিষয়ক এক শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। তিনি সবচেয়ে জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে রূপান্তর সক্ষমতা ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে চীনের পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থাপিত একটি গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন চীনের নগর পরিকল্পনা ও নকশা একাডেমির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রকৌশল জরিপ ও নকশাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লি সিয়াওচিয়াং। এই কাউন্সিল চীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থা।
লি জলবায়ু অভিযোজন সক্ষম সমাজ গঠনবিষয়ক সিসিআইসিইডি’র প্রাথমিক গবেষণাদলের চীনাসহ-নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ গবেষণায় জলবায়ু সহনশীলতার পাঁচটি মূল সক্ষমতার ভিত্তিতে একটি মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সক্ষমতাগুলো হলো,প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনরুদ্ধার, রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন।
চীন ২০৩৫ সালের মধ্যে মূলত একটি জলবায়ু-অভিযোজন সক্ষম সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সিসিআইসিইডি‘র গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন এখন জাতীয় নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও জনকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে। গবেষণায় পরিকল্পনা, অবকাঠামো, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও জনপরিচালনার সব ক্ষেত্রে জলবায়ু অভিযোজনকে মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সিসিআইসিইডি’র বিশেষ উপদেষ্টা লি জোর দিয়ে বলেন, ‘জলবায়ু অভিযোজন ও জলবায়ু প্রশমন মৌলিকভাবে ভিন্ন বিষয়। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর সুফল বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং তা তুলনামূলক সহজে পরিমাপ করা যায়।
লি বলেন, ‘জলবায়ু অভিযোজনের জন্য সর্বজনীন কোনো ছক নেই। একই ধরনের ঝুঁকির মুখে থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে কেবল এমন অভিজ্ঞতাই বিনিময় করা সম্ভব, যা অন্য অঞ্চলেও কাজে লাগানো যায়।
পাশপাশি লি বিদ্যুৎ, পরিবহন, পানি নিষ্কাশন ও জরুরি সেবাব্যবস্থাসহ জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অবকাঠামোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তার মতে, চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির কারণ শুধু মূল দুর্যোগ নয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পরিবহনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়া এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ধারাবাহিক বিপর্যয়ও ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদনে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী অবকাঠামো ও জরুরি সেবাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ স্থাপনা, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো, নগরীর পৌরসেবা অবকাঠামো, পরিবহনব্যবস্থা, গ্রামীণ উৎপাদন এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে প্রকৌশলগত মানদণ্ড সংশোধনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।





