আন্তর্জাতিক

জাপানে স্থায়ী বসবাসের ফি ২০ গুণ বাড়ল

জাপানে স্থায়ী বসবাসের ফি ২০ গুণ বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) অনুমতি পেতে বিদেশিদের ফি ২০ গুণ বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার সমান। একই সঙ্গে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য আয়, পেনশন ও জাপানি ভাষা সংক্রান্ত নতুন শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ফি বাড়ানোর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির অভিবাসন কার্যালয়গুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বাড়তি ফি কার্যকর হওয়ার আগে আবেদন করতে অনেকে সেখানে ভিড় করেন। টোকিওর প্রধান অভিবাসন কার্যালয়ে অপেক্ষার সময় সাত ঘণ্টারও বেশি ছিল বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই ফি বাড়ানো হয়েছে। জাপানে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদেশি জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত জুলাইয়ে বিদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়। ৫০ বছরের মধ্যে এটি ছিল দেশটির প্রথম ভিসা ফি বৃদ্ধি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফি বাড়ানো হয়েছে।

জাপানে অভিবাসন এখনো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত বিষয়। তবে দেশটির বয়স্ক জনসংখ্যা এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি এবং দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে বিদেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসন ব্যবস্থাপনা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ার কারণে জাপানি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বা বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সম্প্রতি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন।

১ অক্টোবর থেকে জাপানে বসবাসের মেয়াদ পরিবর্তন বা বাড়ানোর ফিও বেড়েছে। আগে প্রতিবার এ ধরনের আবেদনে ৬ হাজার ইয়েন দিতে হতো। এখন চাওয়া মেয়াদ অনুযায়ী ১০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ইয়েন পর্যন্ত ফি দিতে হবে। তিন মাস বা তার কম মেয়াদের জন্য ১০ হাজার ইয়েন এবং পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও শরণার্থীদের জন্য ফিতে ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের এখন জাপানের গড় আয়ের সমান বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। ২০২৪ সালের হিসাবে দেশটির গড় পারিবারিক আয় ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন।

আগামী বছরের এপ্রিল থেকে স্থায়ী বসবাসের জন্য শর্ত আরও কঠোর হবে। আবেদনকারীদের মৌলিক জাপানি ভাষাজ্ঞান থাকতে হবে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নতুন শর্তের কারণে জাপানি ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধাও বিবেচনা করা হবে। প্রত্যাশিত পেনশন সুবিধা এমন হতে হবে, যা ৩০ বছর কর্মী পেনশন ব্যবস্থায় যুক্ত থাকা একজন ব্যক্তির সুবিধার সমতুল্য। তবে প্রত্যাশিত পেনশন কম হলে আবেদনকারীর আর্থিক সম্পদের মূল্যও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

টোকিওতে ১০ বছর ধরে বসবাস ও কাজ করা ৩৭ বছর বয়সী মিকাইয়া স্টিভেন্স ফি বাড়ানোর আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে পারেননি। তিনি এখনও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন। তবে বিদেশিদের জন্য নতুন এসব শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বিষয়:২০ গুণ জাপান স্থায়ী বসবাস স্থায়ী বসবাসের ফি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…