ক্যান্সার চিকিৎসা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিনাজপুরে নতুন উদ্যোগ
তিন মাসে ৩০ শয্যায় উন্নীতের পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত
স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দিনাজপুরে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম। একই সঙ্গে চালু হয়েছে খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের বহির্বিভাগ। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি ৩০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে মাসব্যাপী সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কর্মসূচির সমাপনী এবং বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অক্টোবর মাসজুড়ে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও সহযোগী সংগঠনগুলো ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আলোচনা সভা, পথসভা, গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা ও বাংলায় লেখা তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ করেছে। ২৯ ও ৩০ অক্টোবর দিনাজপুরের প্রতিটি উপজেলায় পথসভা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
মাসব্যাপী কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি জানান, এখন থেকে প্রতি মাসে দেশের একটি জেলায় দিনাজপুরের আদলে সব উপজেলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে ফোরাম।
খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতালের অস্থায়ী ভবনে ইতোমধ্যে বহির্বিভাগ চালু হয়েছে। সেখানে দুজন মেডিকেল অফিসার ও একজন অনকোলজিস্ট প্রতিদিন ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। আগামীকাল থেকে বাছাই করা রোগীদের ডে-কেয়ার সেন্টারে কেমোথেরাপি দেওয়া শুরু হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ইনডোর সুবিধাসহ হাসপাতালটি ৩০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালের নিজস্ব জমিতে রেডিওথেরাপির বাংকারসহ ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার অর্থায়নের জন্য সরকারের কাছে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ফোরামটি সরকারের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। এ কার্যক্রমে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় আরও সক্ষমতা অর্জন করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। এ সময় খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউটের সহসভাপতি একেএম আজাদও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের নবনির্মিত কেবিন ব্লকের ফলক উন্মোচন করেন।






