স্থাপত্য ও নকশায় অবদানের স্বীকৃতি, আইএবি অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা

ছবি: সংগৃহীত
দেশের স্থাপত্য, অভ্যন্তরীণ নকশা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি দিতে আইএবি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫ প্রদান করেছে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)। এবারের আয়োজনে চার বিভাগে মোট ১০টি পুরস্কার ও ১০টি সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বছর আইএবির সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘গোল্ড মেডেল’ দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের এক্সক্লুসিভ পার্টনার ছিল এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড।
স্থাপত্য বিভাগে ‘ইন্ডিভিজুয়াল ডুয়েলিং’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে ডিডব্লিউএম ৪ আর্কিটেক্টসের ‘রিয়াজ রেসিডেন্স’। প্রকল্পটির নকশা করেছেন স্থপতি মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদ, মামনুন মুর্শেদ চৌধুরী, শাওকি শামীম ও মো. ওবায়দুর রহমান রাজিব।
গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগে ‘ইনফ্লুয়েন্স অব প্রিলিমিনারি আর্কিটেকচারাল ডিজাইন ডিসিশনস অন ইলেকট্রিসিটি কনজাম্পশন অব রেসিডেনশিয়াল বিল্ডিংস ইন ঢাকা’ শীর্ষক গবেষণার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন স্থপতি মো. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার।
‘সিটি অব ডিজায়ার’ বইয়ের জন্য প্রকাশনা (বই) ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন স্থপতি তানজিল শফিক। এ ছাড়া ‘অপটিমাইজিং ডে-লাইট অ্যাভেইলেবিলিটি অ্যান্ড এনার্জি পারফরম্যান্স থ্রু স্কাইলাইট অ্যান্ড অ্যাট্রিয়াম ডিজাইন ইন আ কালচারাল ইনস্টিটিউশন: আ কেস স্টাডি টুওয়ার্ডস অ্যাচিভিং নেট জিরো এনার্জি বিল্ডিংস ইন ঢাকা’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন স্থপতি কাজী ফাহিমা নাজ, মো. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার, স্থপতি সুব্রত চন্দ্র শিকদার ও স্থপতি সাজিয়া শোয়েব।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন বিভাগে আবাসিক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে জুবায়ের হাসান আর্কিটেক্টসের ‘কবিতা কুঞ্জ’। প্রকল্পটির নকশা করেছেন স্থপতি মো. জুবায়ের হাসান, তাহমিদা আফরোজ, মো. ফাহাদ বিন মোস্তাফিজ, হোসনি মোবারক, সুরভী রানি সূত্রধর, এইচ এম রোমানুর রহমান ও শেখ সাকিব রহমান।
ফ্রেমওয়ার্কের ‘স্যার ফজলে হাসান আবেদ নলেজ হাব’ প্রকল্পটি সংস্কৃতি ও বিনোদন এবং ফার্নিচার ডিজাইন, দুটি বিভাগেই পুরস্কার পেয়েছে। প্রকল্পটির নকশা করেছেন স্থপতি মো. ফয়সাল কবির ও অনুপ কুমার বসাক।
আইএবি থিসিস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী মো. শাফায়েত বিন আলম। ‘প্যালিম্পসেস্ট অব প্লে অ্যান্ড পেডাগজি: ডিজাইনিং আ চাইল্ড-সেন্ট্রিক মাদ্রাসা থ্রু সিমপ্যাথেটিক রি-ইউজ অব বড় কাটরা’ শীর্ষক থিসিসের জন্য তিনি এ পুরস্কার পান।
দ্বিতীয় হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাবিলা নুসরাত। তার থিসিসের শিরোনাম ‘রিক্লেইমিং দ্য মার্জিনস: ডিজাইনিং ইনক্লুসিভ হাউজিং ফর দ্য হরিজন কমিউনিটি’। তৃতীয় হয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আজমাইন আরমিন প্রীতু। তার থিসিসের বিষয় ছিল ‘ফ্রম ঈদ টু এভরিডে: রিইমাজিনিং ধানমন্ডি শাহী ঈদগাহ অ্যাজ আ লিভিং মনুমেন্ট’।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের পাশাপাশি চারটি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও শিক্ষামূলক কাজের জন্য আরও ১০টি সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইএবির সহসভাপতি (জাতীয় বিষয়ক) স্থপতি নওয়াজিশ মাহবুব। বক্তব্য দেন এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর খান সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ মিনহাজ। আইএবির অ্যাওয়ার্ড পরিচালক স্থপতি অধ্যাপক ড. মো. নওরোজ ফাতেমি নকশার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন ও স্থাপত্য গবেষণার প্রসারে এ পুরস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন আইএবির সভাপতি স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক স্থপতি অধ্যাপক ড. মাসুদ উর রশীদ। এ সময় বিচারকমণ্ডলী ও পুরস্কার কমিটির সদস্যদেরও সম্মাননা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) দেশের স্থপতিদের জাতীয় পেশাজীবী সংগঠন। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৩০০। গত পাঁচ দশকে স্থাপত্য পেশার পরিধি ভবন নকশার পাশাপাশি নগর নকশা, ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ নকশাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।
আইএবি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এর এক্সক্লুসিভ পার্টনার হিসেবে এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড স্থাপত্য সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও নকশার উৎকর্ষকে উৎসাহিত করতে সহযোগিতা করেছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন আইএবির সাধারণ সম্পাদক স্থপতি অধ্যাপক ড. মাসুদ উর রশীদ। পরে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।


