আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারের বড় অংশ দখলে, জান্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে বিদ্রোহীরা?

বর্মী সেনারা অস্ত্র উঁচু করে দাঁড়িয়ে, সামরিক মহড়ার ছবি. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

বর্মী সেনারা সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে, অস্ত্র উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকার ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বড় ধরণের সামরিক সাফল্য পেয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট জান্তাকে সরিয়ে দিয়ে পূর্ব মিয়ানমারের একটি বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে। ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ নামে ওই জোট আসলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি শক্তিশালী বিদ্রোহী বাহিনী নিয়ে গঠিত। তাদের যোদ্ধারা এখন মিয়ানমারের দ্বিতীয় শহর মান্দালয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) শনিবার বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ বা ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ নামে পরিচিত মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলের এই সশস্ত্রগোষ্ঠী মূলত তিনটি সশস্ত্র সংগঠন নিয়ে গঠিত। মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ বাহিনী হিসেবে উঠে এসেছে এই জোট। এই বিদ্রোহী জোট ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের বড় অংশের দখল নিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, জান্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে কি বিদ্রোহীরা?

ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সে আছে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি, তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এবং আরাকান আর্মি। তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি দেশটির পূর্ব দিকে আর আরকান আর্মি পশ্চিমাঞ্চলের বাহিনী। অতীতে তারা নিজেদের অঞ্চলের জন্য আরও স্বাধীনতা আনতে মিয়ানমারের সরকারী বাহিনীর সাথে লড়াই করেছে। এখন তারা বলছে যে সামরিক সরকারকে উৎখাত করাই তাদের লক্ষ্য।

লাশিও শহর দখল করার পরে সেখানকার একটি রাস্তার মোড়ে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের পতাকা উড়ছে

ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স যেভাবে লড়ছে

গত বছরের ২৭শে অক্টোবর থেকে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অধীন তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমারের সরকারি সেনাবাহিনীর (যেটি তাতমাদাও নামে পরিচিত) বিরুদ্ধে শান প্রদেশ জুড়ে সমন্বিত আক্রমণ চালায়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় অপারেশন ১০২৭। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) তথ্য অনুযায়ী, জোটের অধীন প্রায় ১০ হাজার যোদ্ধা এতে অংশ নিয়েছিল।

ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স বাহিনী সরকারি সেনা চৌকি দখল করে নেয় এবং বেশ কয়েকটি শহর দখল করে। এমএনডিএএ চীন সীমান্তের একটি প্রধান শহর লাউক্কাই পুনরায় দখল করে। এই শহরটি থেকে এমএনডিএএ যোদ্ধাদের ২০১৫ সালে তাড়িয়ে দিয়েছিল সরকারি সামরিক বাহিনী। অগাস্টের শেষের দিকে, এমএনডিএএ উত্তরাঞ্চলীয় শান প্রদেশের লাশিও-র দিকে এগোতে থাকে এবং এক সময়ে শহরটি দখল করে নেয়। লাশিওতে তাতমাদাও-র উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতরও দখল করে নিয়েছে তারা।

বিদ্রোহীদের হাতে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা সেনা-কেন্দ্রের পতনের ঘটনা মিয়ানমারের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি।

ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স কী চায়?

সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছে মিয়ানমারের ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)। এটি ২০২১ সালে জান্তা কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের একটি গোষ্ঠী। থাইল্যান্ডে নির্বাসিত থাকা অবস্থায় তারা নিজেদের মিয়ানমারের বৈধ সরকার বলে মনে করে। এই গোষ্ঠীটির লক্ষ্য হল মিয়ানমারে একটি বেসামরিক, গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স বলেছে যে তারা সামরিক জান্তাকে উৎখাত করার এনইউজির লক্ষ্যের সঙ্গে সহমত, তবে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করার জন্য কোনও চুক্তি উভয় পক্ষ করেনি।

বিষয়:জান্তা থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স মিয়ানমার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…