রুশ গবেষণাগারের কর্মীর মৃত্যুর পরও প্লেগের সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি: ডব্লিউএইচও

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার প্লেগ গবেষণাগারের এক কর্মীর মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে ওই মৃত্যুর ঘটনায় প্লেগের কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানায়, ওই কর্মী এবং তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষা করে যেসব বিপজ্জনক জীবাণুর খোঁজ করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনোটিই পাওয়া যায়নি বলে সংস্থাটিকে জানিয়েছে রাশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। ওই ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো কারও মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা যায়নি। এ ছাড়া ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন কোনো গুরুতর নিউমোনিয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়নি।
ডব্লিউএইচও বলেছে, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত চলমান সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত গবেষণাগারকর্মীর রোগটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
গত ২ অক্টোবর অজ্ঞাত পরিস্থিতিতে অসুস্থ হয়ে মারা যান ওই গবেষণাগারকর্মী। এ ঘটনায় প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওই নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা। তাঁর বয়স ২৮ বছর। তিনি সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে অবস্থিত ইরকুতস্ক অ্যান্টিপ্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব সাইবেরিয়া অ্যান্ড দ্য ফার ইস্টে পরীক্ষাগারকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
শুরুতে তাঁর মৃত্যুর পেছনে নিউমোনিক প্লেগের আশঙ্কা করা হয়েছিল। ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে এ রোগ হয়। সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা মাছির মাধ্যমে এই জীবাণু ছড়ায়। রোগটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত গুরুতর রূপ নিতে পারে।
প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর বলেছিলেন, ওই নারী ‘সম্ভবত প্লেগে’ মারা গেছেন। তবে রাশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসপোত্রেবনাদজর জানিয়েছে, তাঁর শরীরে অজ্ঞাত কারণে সৃষ্ট নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়েছিল।
রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কর্মী যথাযথ টিকা নিয়েছিলেন। তাঁর শরীরে কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অণুজীবও পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পর পরীক্ষা করেও প্লেগের জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাশিয়া জানায়, ওই কর্মীর সংস্পর্শে আসা সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ডব্লিউএইচওকে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা ৬ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশকে ইতিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দ্বিতীয় এক কর্মীর বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। তবে রাশিয়া ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া তথ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
এ ঘটনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।
কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাগুলো নিয়ে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। চীনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতার একাধিক ঘটনা থেকে কোভিড-১৯ মহামারির সূচনা হয়েছিল।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউমোনিয়ার অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।






