১৭ বছর পর পিলখানা ট্র্যাজেডির সেই গান, আসিফের সঙ্গে এবার রোদসী

২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল আসিফ আকবরের গান ‘ট্র্যাজেডি পিলখানায়’। গীতিকার রাজীব আহমেদের লেখা, পল্লব স্যানালের সুর করা গানটিতে আসিফের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তখনকার শিশু শিল্পী সাবরিনা পড়শী।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর নতুন সংগীতায়োজনে আবারও প্রকাশিত হচ্ছে গানটি। এবার আসিফ আকবরের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি’র আধুনিক গানে বিজয়ী শিশু শিল্পী রোদসী নূর সিদ্দিকী।
গানটির নতুন সংগীতায়োজন করেছেন রাজীব হোসেন। ভিডিও নির্মাণ করেছেন ইয়ামিন ইলান। নতুন সংস্করণে আবৃত্তির অংশটুকু পাঠ করেছেন গীতিকার রাজীব আহমেদ নিজেই। মূল গানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম।
২০০৯ সালে গানটি প্রকাশের সময় পড়শী ছিলেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কাকতালীয়ভাবে নতুন সংস্করণে কণ্ঠ দেওয়া রোদসীও একই শ্রেণিতে পড়ছে। তবে নতুন করে গানটি তৈরির পেছনে রয়েছে সেই সময়ের স্মৃতি, শোক ও শ্রদ্ধার এক দীর্ঘ ইতিহাস।
গীতিকার রাজীব আহমেদ তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, যেদিন শহীদদের দাফন সম্পন্ন হয়, সেদিনই গানটির মূল ভাবনা তার মাথায় আসে। গানটির জন্য প্রয়োজন ছিল একজন শিশু শিল্পী ও একজন আবৃত্তিশিল্পীর। তখন তিনি চ্যানেল আইয়ের কালচারাল রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। ‘ক্ষুদে গানরাজ’ অনুষ্ঠান কাভার করার সুবাদে পড়শীর মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। সেই সূত্রেই শিশু শিল্পী হিসেবে পড়শীকে বেছে নেন তিনি।
রাজীবের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু শিল্পী হিসেবে পড়শীকে তার পছন্দ হয়েছিল। আর আসিফ আকবরের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন পড়শী ও তার মা। গানটিতে কণ্ঠ দেওয়াই ছিল পড়শীর জীবনের প্রথম পেশাদার কাজ।
গানটির সুর করেছিলেন পল্লব স্যানাল। আবৃত্তির অংশে কণ্ঠ দিয়েছিলেন প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম। সময়ের প্রেক্ষাপটে গানটি হয়ে ওঠে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সংগীত আয়োজন।
দীর্ঘদিন পর গানটি নতুন করে তৈরি করার ভাবনা নিয়ে আসিফ আকবর বলেন, এটি একটি মাইলফলক গান। ২০০৯ সালে পিলখানায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তা শহীদ হন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যেই গানটি তৈরি হয়েছিল।
অন্যদিকে, গানটির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আনন্দের পাশাপাশি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছে রোদসী। সে বলেছে, তার নামটি আসিফ আকবরের কাছে প্রস্তাব করার জন্য ইথুন বাবু স্যারের প্রতি এবং তাকে গানটির সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আসিফ আকবর স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ।






