চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channeliadds-30.01.24Nagod

গান-কবিতা-আলোচনায় নেত্রকোনা ট্রাজেডি দিবস পালন

গান-কবিতা-নাচ ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগতের ইতিহাসে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডগুলোর অন্যতম নেত্রকোনা হত্যাকাণ্ডের ১৮তম বার্ষিকী পালন করলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

৮ ডিসেম্বর বিকেলে নিহতদের স্মরণে উদীচী চত্বর (১৪/২, তোপখানা রোড– জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে) হয় এই স্মরণ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটি দলীয়ভাবে পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। এরপর নিহতদের স্মরণে স্থাপিত অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর সংসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান-এর সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, সিপিবি নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এবং ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফ নূর। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা।

Reneta April 2023

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ২০০৫ সালের এই দিনে নেত্রকোনায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ঘৃণ্য হামলায় প্রাণ হারান উদীচী নেত্রকোনা জেলা সংসদের তৎকালীন সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন, সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলীসহ আটজন। সেইদিনের সেই নৃশংস হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবার এখনও সেই দুঃসহ স্মৃতি বহন করে চলেছে। আর যারা আহত হয়েছিলেন তারা বয়ে বেড়াচ্ছেন শরীরে ক্ষতের অসহ্য যন্ত্রণা।

তারা বলেন, এর আগেও ১৯৯৯ সালে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলা করেছিল মুক্ত চিন্তার বিরোধী অপশক্তি। সেই হামলাসহ এদেশে এযাবত সংঘটিত বেশিরভাগ বোমা হামলারই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। আর সেজন্যই এখনও স্বাধীন বাংলাদেশে আস্ফালন দেখায় অন্ধকারের শক্তি। তবে, যত হামলাই আসুক, অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদমুক্ত, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে উদীচীকে বিচ্যুত করা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ের লাগোয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন শতদল গোষ্ঠীর কার্যালয়ে একটি বোমা পড়ে থাকতে দেখে এক পথশিশু। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খাজা হায়দার হোসেন এবং সুদীপ্তা পাল শেলীসহ উদীচী’র নেতৃবৃন্দও ভিড় করেন ঘটনাস্থলে। এর ঘণ্টাখানেক পর সাইকেল আরোহী এক যুবক নিরাপত্তা বেস্টনী পেরিয়ে উদীচী নেতৃবৃন্দের কাছাকাছি পৌঁছেই তার সাইকেলে বহন করে আনা বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটালে মারা যান উদীচী’র সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেনসহ ৮ জন। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন ৯ জন পুলিশ সদস্য এবং উদীচী’র বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ অন্তত ৬০ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান সুদীপ্তা পাল শেলী।