আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল প্রকাশ, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল

ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল প্রকাশ, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। তবে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এদিকে, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠায় দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাকে (শিন বেত) পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

বিবিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

চূড়ান্ত ভোট গণনায় লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে সাতটি করে আসন। শাস এবং রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি পেয়েছে ছয়টি করে আসন। অন্যদিকে, আরব কমিউনিটির দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই অবস্থায় ইসরায়েলে জোট সরকার, সংখ্যালঘু সরকার কিংবা জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

লিকুদ পার্টির পাশাপাশি গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার, নাফতালি বেনেটের টুগেদার মুভমেন্ট এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের একটি সম্ভাব্য সমীকরণ রয়েছে। এতে তাত্ত্বিকভাবে ৬৬টি আসনের সমর্থন পাওয়া সম্ভব। তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অঙ্গীকার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে এমন সমঝোতা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আরব জনগোষ্ঠীর ভোট প্রভাবিত করতে বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহু এবং তার সমর্থকদের অভিযোগ, ইসরায়েলের আরব কমিউনিটির ভোটের ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য তুরস্ক ও কাতার থেকে অর্থ দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে। তবে তদন্তের নামে যেন ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আরব দলগুলোর জোট ‘দ্য জয়েন্ট লিস্ট পার্টি’। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের নির্বাচনে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিও জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা পদ্ধতিগতভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এমন অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে নির্বাচনে কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগও ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

বিষয়:ইসরায়েল নির্বাচন নেতানিয়াহু

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…