নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চীন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। সাউথ কোরিয়াও বিশেষ উদ্ধারদল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আর বাংলাদেশ নির্দিষ্ট সংখ্যক উদ্ধারকর্মী না পাঠালেও প্রয়োজন অনুযায়ী নেপালকে সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
চীনের ৫৭৪ উদ্ধারকর্মী
দ্যা গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং এলাকায় বন্যা ও কাদামাটির স্রোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর দেশটি ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। তারা নিখোঁজদের সন্ধান, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
সাউথ কোরিয়ার বিশেষ উদ্ধারদল
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিখোঁজ সাউথ কোরীয় নাগরিকদের উদ্ধারে সিউলও বিশেষ দল পাঠাচ্ছে। একটি ১১ সদস্যের যৌথ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অগ্নিনির্বাপণ ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
ভারতের উদ্ধার প্রস্তুতি
রয়টার্স জানায়, নেপালের বন্যার পানি ভারতের দিকে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ভারতও উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। পাশাপাশি নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার সমন্বয় করছে দেশটি। তবে নেপালের ভেতরে ভারত ঠিক কতজন উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশ কতজন পাঠিয়েছে?
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক উদ্ধারকর্মী নেপালে পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে গভীর শোক জানিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। অর্থাৎ বাংলাদেশ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যক উদ্ধারকর্মী পাঠানোর ঘোষণা দেয়নি।
নেপালের নিজস্ব বাহিনীই মূল উদ্ধারকাজে
আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বন্যার স্রোতে সড়ক, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই দুর্যোগে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং চার শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে নদীতে পড়ার পর সৃষ্ট প্রবল কাদা-পানির স্রোত থেকেই এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।








