সরকারি সম্পদ ও জনগণের অর্থ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকারি সম্পদ জনগণের অর্থে পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের অপচয় রোধ করে দায়িত্বশীল ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকারি অর্থ ও সম্পদের ব্যবহারে কোনো ধরনের অপচয় যাতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও দায়িত্বের অংশ।
তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতি এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য নিয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হতে হবে।
বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসংক্রান্ত সব বিষয় অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে এসেছি আমি। এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষ এবং রাষ্ট্রের কল্যাণে দলনিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করবো।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কারও প্রতি রাগ বা অনুরাগ থাকবে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।









