নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বন্যার পর নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রবল স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে এবং সেতু ভেসে গেছে। কাদা ও পানির স্রোতের কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।
নেপালে এখনো ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বৃষ্টি ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে।
হেলিকপ্টারে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার স্ত্রী এখনো কাদামাটির নিচে কোথাও আটকে আছেন।
তিব্বতে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ এবং তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তিব্বত ও নেপালের নিখোঁজের সংখ্যার মধ্যে কোনো ব্যক্তির নাম উভয় তালিকায় রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সীমান্তের উভয় পাশে শত শত বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৭৮ জন পর্যটক, নেপালের ১২৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে পড়া ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। নদীতে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী বিবিসিকে জানিয়েছেন, আজ বা আগামীকাল দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় পানির ঢল আসার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। চীনে থাকা সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন। সেখানে খুব বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। তবে যেকোনো সময় ভূমিধস হতে পারে।
বসন্ত রাজ অধিকারী আরও বলেন, হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। তবে নির্দিষ্ট কোনো দিনে এমন ঘটনা ঘটবে, তা আমরা জানতাম না।







