আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ফোনকলের জবাব দেননি মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি, প্রেস ব্রিফিং চলাকালে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে প্রস্তুত (এনডিটিভি)

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চারবার ফোনকলের জবাব দেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাম্প্রতিক শুল্ক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জার্মান সংবাদমাধ্যম ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালগেমাইনে জেইতুনগে (এফএজেড) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এটি ছিল মোদির রাগের গভীরতা এবং সতর্কতার বহিঃপ্রকাশ।

জাপানি সংবাদপত্র নিক্কেই এশিয়াও একই দাবি করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি ট্রাম্পের ফোন এড়িয়ে যাচ্ছেন যা ট্রাম্পের হতাশা আরও বাড়িয়েছে।

শুল্ক বিরোধ

সম্প্রতি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেন যা ব্রাজিল ছাড়া অন্যসব দেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ভারতীয় অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপও অন্তর্ভুক্ত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থে তিনি কোনো আপোষ করবেন না এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। মোদির ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে অনিচ্ছুক হওয়া প্রমাণ করে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট ক্ষুব্ধ।

পাকিস্তান প্রসঙ্গ

এফএজেড তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করে, পাকিস্তানকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ভারতীয় দৃষ্টিতে তার ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে মধ্যস্থতা করেছেন তিনি। তবে ভারত এ দাবি অস্বীকার করেছে।

চীন ফ্যাক্টর

এফএজেড-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় বিশ্লেষক মার্ক ফ্রেজার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আওতায় ভারতকে চীনের বিপক্ষে মূল ভূমিকা দেওয়ার কথা ছিল।

ফ্রেজারের মতে, নয়াদিল্লি কখনোই ওয়াশিংটনের পক্ষে থেকে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়নি। চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ভারতের শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে ভারত বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ভারতের কৌশলগত পরিবর্তন কেবল মার্কিন শুল্কের প্রতিক্রিয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটায় ভারত ও চীন এখন বৈশ্বিক প্রভাব ও শিল্পোন্নয়নে অভিন্ন স্বার্থ ভাগাভাগি করছে।

চীন সফরে মোদি

আগস্ট মাসের শেষে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। এটি হবে তার প্রথম চীন সফর। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সফর মূলত বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা, একইসঙ্গে অনিশ্চিত মার্কিন-চীন সম্পর্কের দিকে সতর্ক নজর রাখাও এর উদ্দেশ্য।

বিষয়:ভারত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…