চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদেও কাটেনি রহস্য, দ্বীপের ফের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় চার দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে। মামলার অধিকতর তদন্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে তাকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে আদালতে হাজির করে এ আবেদন করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিকেলে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দেহভাজন আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে দিশা বাসায় ফিরে যান।
পরে ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দ্বীপ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে পৌঁছান। সেখান থেকে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যাওয়ার পর কয়েকজন লোককে দেখতে পেয়ে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দ্বীপ।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার আগে তাহসিফকে দ্বীপ ও দিশার সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সর্বশেষ তাহসিফকে তাদের সঙ্গেই দেখা গেছে। এ কারণে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দ্বীপকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে পুলিশ আটটি কারণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা, তাহসিফের সঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় দ্বীপ ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যত্র গিয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা অনুসন্ধান করা এবং তাহসিফ, দ্বীপসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য (মোটিভ) উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্থান নির্ধারণের জন্যও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের করা হত্যা মামলায় দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের আগপর্যন্ত কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে দ্বীপের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে পিবিআই। তার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দ্বীপের দেওয়া তথ্য সরেজমিনে যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে নেওয়া হয়। বিকেল ৪টায় রুয়াপ কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা অংশ নেন। পরে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নদী পুলিশ। মরদেহের কাছে থাকা আইফোন ও হাতঘড়ি দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।






