বাব আল-মান্দাব ঘিরে তীব্র লড়াই, হুথিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান

ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮৬০ হুথি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ২ হাজার ১০৩টি ‘নির্ভুল হামলা’ চালানো হয়েছে।
রোববার প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্যে এ অভিযান ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রাজধানী সানাও রয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ইরান-সমর্থিত হুথিরা সানা নিয়ন্ত্রণ করছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের এলাকা। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বর্তমানে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মঙ্গলবার ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনী বাব আল-মান্দাবের কাছে কৌশলগত এলাকা এবং মোখা শহরের আশপাশে অভিযান শুরু করে। গত সেপ্টেম্বরে এসব এলাকার কিছু অংশ হুথিরা দখল করেছিল।
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার হুথিদের ৮২টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছে। জোটের মুখপাত্র জানান, সাদা, হোদেইদাহ, আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশে এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
জোটের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাঁটি, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রের গুদাম। সাদা প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় থাকা ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গুদামও হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ও বুধবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায় হুথিরা।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বিমানবন্দরে এসব হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন। আর আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হন।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে দেশটির দীর্ঘদিনের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে লড়াই বাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


