দেশের খেলোয়াড়েরাও বিশ্বজয় করতে পারে: মাহ্দী আমিন
শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা,

খেলাধুলা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, এর ফলে দেশের খেলোয়াড়েরাও বিশ্বজয় করতে পারে। বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছর চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলা ও ক্রীড়াচর্চাকে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করা।
মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ‘গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রমুখ। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ শেষে সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে ফুল, ব্যাচ ও কোট পিন দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যেই এবার দেশব্যাপী অত্যন্ত বৃহৎ পরিসরে জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। দাবা, হ্যান্ডবল, সাঁতার ও কাবাডি-এই চারটি প্রধান খেলায় নিজ নিজ পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে সারা দেশ থেকে আগত তিন শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থী ফাইনাল রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশে সরকারের দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে, তার মাধ্যমেই আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে ক্রীড়াক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্রীড়াকে শিক্ষা ব্যবস্থার এক অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও শারীরিক মানসিক বিকাশের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ‘প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশে নতুন ধারার ক্রীড়াচর্চা ও শারীরিক শিক্ষার যে আবহ তৈরি হয়েছে, তা উত্তরোত্তর আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেয়া হবে।
চলতি জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যাপকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, আজকের এই জাতীয় মঞ্চে উঠে আসা তিন শতাধিক প্রতিযোগী কোনো সাধারণ পথ পেরিয়ে আসেনি। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, উপ-অঞ্চল ও আঞ্চলিক পর্যায়ের কঠিন ধাপগুলো অতিক্রম করেই তারা আজ ফাইনাল রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে।
অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর প্রতি শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে যেসব নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দলগত শক্তির (টিমওয়ার্ক) সৃষ্টি হচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠা উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরিতে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
মাহ্দী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং সরকারের সকল বিভাগের সমন্বয়ে সম্মিলিতভাবে একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
এর আগে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ‘গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন দেশ গড়ার রূপকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। স্কুল, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা থেকে আগত জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে আজকের এই জাতীয় পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ আগামী দিনের বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি বলিষ্ঠ ও প্রাথমিক পদক্ষেপ।
খেলাধুলার বহুমুখী গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, খেলাধুলা কেবল জয়-পরাজয়ের কোনো নিছক প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি চরিত্র গঠনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা। খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার শিক্ষা দেয়। এখান থেকেই তারা শৃঙ্খলা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানোর মানসিকতা অর্জন করে। প্রতিযোগিতা থেকে অর্জিত এই শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে ভালো ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, দাবা খেলা কৌশল, দূরদৃষ্টি ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। হ্যান্ডবল শেখায় দলগত শক্তি বা ‘টিমওয়ার্ক’, যা সমাজ ও দেশের জন্য একযোগে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। অন্যদিকে সাঁতার প্রতিকূলতার ঢেউ পেরিয়ে বিজয়ী হওয়ার শিক্ষা দেয় এবং কাবাডি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে অসীম সাহস ও ক্ষিপ্রতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
সকল প্রতিযোগীর উদ্দেশ্যে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন তাদের কেবল দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আহ্বান জানান।
জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিযোগিতার জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, জাতীয় পর্যায়ে এসে পৌঁছানো প্রতিটি শিশুই ইতোমধ্যে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব এবং বিশেষ করে কুমিল্লার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণের আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহ্দী আমিন বলেন, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় দেশ পুনর্গঠনের যে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে, সেখানে কুমিল্লার স্থানীয় প্রশাসনের এই অনন্য ও সফল আয়োজন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ইউসুফ মোল্লা টিপু, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, কুমিল্লার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। এছাড়াও ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইমদাদুল বারী আবু এবং কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতার এবং পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান প্রমুখ।






