আন্তর্জাতিক

বেবি পাউডার মামলার নিষ্পত্তিতে বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে প্রস্তুত জনসন অ্যান্ড জনসন

জনসন অ্যান্ড জনসন বেবি পাউডার বোতল ও পাউডার. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

জনসন অ্যান্ড জনসন ব্র্যান্ডের বেবি পাউডার বোতল ও পাউডার দেখানো হয়েছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার ও অন্যান্য পণ্য ব্যবহারের কারণে ডিম্বাশয়ের (ওভেরিয়ান) ক্যানসার হয়েছে এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া বেশ কিছু মামলার নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে বহুজাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)।

আজ (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির এই প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সিভিত্তিক কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এই বিষয় সংক্রান্ত প্রায় ৬৯ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হবে, যা এখনও বিচারাধীন অধিকাংশ দাবির অন্তর্ভুক্ত।

জে অ্যান্ড জে জানিয়েছে, সমঝোতা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী বছর সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে। এরপর ২০২৮ সালের আগে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে সমঝোতা চূড়ান্ত হতে হলে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে চলমান ওভেরিয়ান ক্যানসার-সংক্রান্ত দাবিগুলোর অন্তত ৯৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মতি প্রয়োজন হবে।

সোমবার এক বিবৃতিতে জনসন অ্যান্ড জনসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট (লিটিগেশন) এরিক হাস বলেন, কোম্পানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আদালতে অধিকাংশ মামলায় কোম্পানি সফল হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আইনি লড়াই চালালে জয়ী হওয়ার বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। তবে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা দূর করে মূল ব্যবসায় মনোযোগ দিতেই এই সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সমাধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্যেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে।

২০০৯ সাল থেকে জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডারকে ঘিরে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে। বাদীদের অভিযোগ, কোম্পানির ট্যালক পণ্য অ্যাসবেস্টস দ্বারা দূষিত ছিল, যা ক্যানসারের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। অ্যাসবেস্টস একটি পরিচিত ক্যানসারসৃষ্টিকারী পদার্থ। ট্যালক ও অ্যাসবেস্টস একই ধরনের ভূতাত্ত্বিক স্তরে পাওয়া যায়, ফলে খননের সময় দূষণের ঝুঁকি থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে জনসন অ্যান্ড জনসন। সর্বশেষ বিবৃতিতেও প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে তাদের ব্যবহৃত ট্যালক নিরাপদ, এতে অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসারের কারণ নয়।

বিষয়:জনসন অ্যান্ড জনসন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…