দাওয়াত খেয়ে টাকা দেওয়া কি জায়েজ? কী বলছে ইসলাম?

ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে, জন্মদিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বন্ধুদের বাসায় দাওয়াত এসব আয়োজনে খাওয়াদাওয়া আমাদের সামাজিক জীবনের পরিচিত অংশ। অনেক সময় দাওয়াত খেয়ে আসার পর আয়োজককে টাকা দেওয়া হয়। কেউ ভালোবাসা থেকে দেন, কেউ আবার সামাজিক রীতি বা দায়বদ্ধতা থেকে।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে দাওয়াত খেয়ে টাকা দেওয়া কি জায়েজ? নাকি এতে দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়? ইসলামে কাউকে আপ্যায়ন করা একটি ভালো কাজ। একইভাবে আপ্যায়ন গ্রহণ করাও বৈধ। তবে দাওয়াতের বিনিময়ে টাকা দেওয়া এবং স্বেচ্ছায় উপহার বা সহযোগিতা হিসেবে টাকা দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ইসলামে মেহমানদারির গুরুত্ব
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন। সহিহ বুখারির ৬১৩৫ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।’
অর্থাৎ, কাউকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় সামাজিক ও নৈতিক আচরণ। এই আপ্যায়নকে সাধারণত খাবারের ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে দেখা হয় না।
কোন ক্ষেত্রে টাকা দেওয়া জায়েজ?
১. স্বেচ্ছায় উপহার হিসেবে দিলে: দাওয়াত খেয়ে আয়োজকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা তার খরচে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে নিজের ইচ্ছায় টাকা দেওয়া জায়েজ। এটি উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে।
২. আগে থেকে টাকা দেওয়ার কথা থাকলে: কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগে যদি ঠিক হয় যে প্রত্যেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেবেন, তাহলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সেই অর্থ দেওয়া জায়েজ। এটি সাধারণ দাওয়াতের চেয়ে যৌথ খরচের আয়োজন।
৩. সামাজিক চাপে টাকা দিলে: লোকলজ্জা, সমালোচনার ভয় কিংবা সামাজিক বাধ্যবাধকতা থেকে টাকা দেওয়া উপহারের প্রকৃত উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না। কাউকে এমন অর্থ দিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
কোরআন-হাদিসের আলোকে কী বোঝা যায়?
পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা অন্যায়ভাবে একে অন্যের সম্পদ ভোগ করতে নিষেধ করেছেন। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে লেনদেন বৈধ করেছেন। অন্যদিকে, সহিহ বুখারির ২৫৮৫ নম্বর হাদিসে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। এ থেকে বোঝা যায়, উপহার দেওয়া ও গ্রহণ করা ইসলামে বৈধ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি মাধ্যম।
তাহলে দাওয়াত খেয়ে টাকা দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
না। সাধারণ দাওয়াত গ্রহণ করার পর অতিথির ওপর খাবারের মূল্য পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আয়োজকও আগে থেকে কোনো শর্ত বা সমঝোতা না থাকলে অতিথির কাছে খাবারের দাম দাবি করতে পারেন না। তবে অতিথি নিজের সামর্থ্য ও ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থ বা উপহার দিতে পারেন। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু উপহারকে বাধ্যতামূলক সামাজিক নিয়মে পরিণত করা কিংবা কাউকে আর্থিক চাপে ফেলা উচিত নয়। ইসলামে দাওয়াত খেয়ে স্বেচ্ছায় টাকা দেওয়া জায়েজ। তবে সেটি উপহার বা সহযোগিতা হতে হবে, বাধ্যতামূলক মূল্য পরিশোধ নয়।






