আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনায় মক্কা চুক্তির ৩ দেশ

ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনায় মক্কা চুক্তির ৩ দেশ

ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সমন্বয় নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন সদস্যদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনও বৈঠকে অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার উপসচিব আলী বাঘেরি কানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে পরামর্শ করতে তেহরান সফর করবেন। এ সময় তারা ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

এ বিষয়ে সৌদি আরবের সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর, পাকিস্তানের সামরিক গণমাধ্যম শাখা ও তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন সদস্যদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেন। ওই সময় তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই সফরে ইরানের কর্মকর্তারা জানান, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির আগের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর দুই দেশের মধ্যে আবার সংঘর্ষ শুরু হলে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

এদিকে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত থাকায় রোববার সৌদি আরব আরও এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে একমত হন তারা।

গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যদেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে সদস্যদেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি হুমকি দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য গত সপ্তাহে তুরস্কের পার্লামেন্টে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা এখনো চলমান। অন্যদিকে পাকিস্তান গত সপ্তাহে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইরানের সঙ্গে তিন দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে।

বিষয়:ইব্রাহিম কালিন ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনা প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মক্কা চুক্তি হুতি বিদ্রোহী

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…