আন্তর্জাতিক

সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি হুতিদের

সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি হুতিদের

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার এক দিন পর বুধবার এ হুমকি দেয় তারা। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। এতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের জেরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুধবার ১৪ অক্টোবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়। এ হামলায় ভবনের কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার কারণে সীমিত আকারে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে।

হুতিরা বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে অবস্থিত আরামকোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে তারা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানি, বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের সৌদি বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, বুধবার রিয়াদের দিকে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। একই দিন সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি নিয়ে সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে বিস্ফোরণের শব্দের উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বেড়েছে। শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। গত এক দশকে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দরটি আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনা করা বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইটও বাতিল করেছে।

ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার পরও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র। কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছেন বলেও জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনীতি বহুমুখীকরণ এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার জন্যও এই সংঘাত বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুতিরা। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি বছর নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে অগ্রসর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করলে সৌদি আরব আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে।

এদিকে, ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে আহত মানুষের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি মাসের শুরুতে হুতি যোদ্ধারা শহরটি ঘিরে ফেলার পর সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না সংস্থাটির কর্মীরা।

ডব্লিউএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, তাইজে ৬ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাদের মধ্যে ২ লাখের বেশি নারী ও শিশু রয়েছে। সহায়তা পৌঁছাতে না পারায় এসব মানুষের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিষয়:তেল স্থাপনা রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদির বিমানবন্দর হামলার হুমকি হুতি বিদ্রোহী

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…