ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় কয়েকজন ইরানি যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, লারাক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালানো হয়েছে। এগুলো হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান ‘যুদ্ধ চায় না’। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে ইরান ‘কখনো চুপ করে বসে থাকবে না’।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে ‘আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় জবাব দেওয়া হবে’।
তিনি আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি কোনো দেশের স্বার্থে নয়। এটি সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’
জর্ডানে হামলায় হতাহতের সংখ্যা জানায়নি কোনো পক্ষ
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তবে হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।
আল জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জর্ডানের দিকে ইরানের ছোড়া পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বাহিনী আকাশেই প্রতিহত করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে এই হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পর আইআরজিসি জানায়, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় কয়েকজন ইরানি নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
এ হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এটি কেবল লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া, নাকি ইরান আরও হামলা চালাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
খার্গ দ্বীপে হামলার এআই ভিডিও প্রকাশ ট্রাম্পের
এদিকে ইরানের খার্গ দ্বীপে বোমা হামলার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভিডিওতে আকাশ থেকে দেখা যায়, একটি তেল সংরক্ষণ ট্যাংক ও তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণে ধ্বংস হচ্ছে।
ভিডিওটির সঙ্গে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খার্গ দ্বীপকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে!!! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।’
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে দেশটির অর্থনীতির জন্য দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প খার্গ দ্বীপ দখল বা ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে আসছেন। এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুগাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের অভিযানে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযানের পর গ্রামের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।









