সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে ২০২৪ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ভারত। এবার নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ক্রিকেটের ছোট সংস্করণের শিরোপা জিতল সূর্যকুমার যাদবের দল। ফাইনালে কিউইদের ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে ঘরের মাঠে খেলা দলটি।
প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবেও জিতল বিশ্বকাপের শিরোপা। শুধু তাই নই, প্রথম দল হিসেবে তিনবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপার মালিকও তারা।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রোববার রাতে সোয়া লাখের বেশি ধারণক্ষমতার মাঠে টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। শুরুতে ব্যাটে নেমে তিন ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান করে ভারত। তাতেই হয়েছে রেকর্ড। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আর এবারের বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথমটিও ভারতেরই। জবাবে ১৯ ওভারেই সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানে থামে নিউজিল্যান্ড।
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে আড়াইশ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের ঘটনা আছে একটিই। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৫৮ রান তাড়া করে জিতেছে সাউথ আফ্রিকা। সে রেকর্ড গড়া হল না কিউইদের।
রেকর্ড রান তাড়ায় নেমে তৃতীয় ওভারেই ফিন অ্যালেনের উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ৭ বলে ৯ রান করেন তিনি। দ্রুতই রাচিন রবীন্দ্রকে ফেরান বুমরাহ, ১ রান করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। সর্বোচ্চ ২৬ বলে ৫২ রান আসে টিম শেইফার্টের ব্যাট থেকে। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ বলে ৪৩ করেন অধিনায়ক স্যান্টনার। এছাড়া বাকিদের কেউ আর পেরোতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘর। শেষপর্যন্ত ১৯ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে কিউইরা থামে ১৫৯ রানে।
ভারতের হয়ে বল হাতে বিধ্বংসী ছিলেন বুমরাহ। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। ৩ ওভারে ২৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন অক্ষর প্যাটেল। একটি করে উইকেট নিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া, অভিষেক শর্মা ও বরুণ চক্রবর্তী।
এর আগে ব্যাটে নেমে প্রথম দুই ওভার দেখে-শুনেই পার করেন সাঞ্জু স্যামসন-অভিষেক শর্মা। এরপর কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন তারা। চার-ছক্কার ঝড় তুলে প্রথম ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ৯২ রান পেয়ে যায় ভারত।
১৮ বলেই ফিফটি তুলে নেন অভিষেক। এরপর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ২১ বলে ৫২ রান করে আউট হন অভিষেক। এরপর ক্রিজে আসা ঈশান কিষানকে সঙ্গে নিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে যান স্যামসন। ১০৫ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটার। ইনিংসে ১৬তম ওভারে বোলিংয়ে এসে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের রানের লাগাম কিছুটা টেনে ধরেন জিমি নিশাম।
স্যামসন ৪৬ বলে ৮৯, ঈশান কিষান ২৫ বলে ৫৪ ও রানের খাতা খোলার আগেই সূর্যকুমার সাজঘরে পাঠান নিশাম। শেষ দিকে শিভম দুবের অপরাজিত ৮ বলে ২৬ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান সংগ্রহ করে ভারত।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন জেমস নিশাম। এছাড়া একট উইকেট শিকার করেন রাচিন রবীন্দ্র ও মেট হেনরি।








