লাইফস্টাইল

গরমে শিশুদের সুস্থ রাখবেন যেভাবে

গরমে শিশুদের সুস্থ রাখবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমে বড়দেরই যখন স্বস্তি মেলে না, তখন শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত তাপ, ঘাম ও পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার কারণে অল্প সময়েই শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় তীব্র রোদে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি। তাই গরমের দিনে শিশুকে সুস্থ, স্বস্তিতে ও প্রাণবন্ত রাখতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। কিছু সহজ অভ্যাস ও নিয়মিত যত্নই পারে গরমজনিত নানা সমস্যা থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে।

পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার

গরমে শিশুর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। শিশুকে একবারে বেশি পানি না দিয়ে অল্প অল্প করে বারবার নিরাপদ পানি পান করানো ভালো। শিশু খেলাধুলা করলে বা বাইরে অবস্থান করলে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরপর পানি দিতে পারেন। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ বয়সী শিশুকে আলাদা করে পানি বা অন্য কোনো তরল পান করানোর প্রয়োজন নেই।

পোশাক ও পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি যত্ন

গরমে শিশুর জন্য আরামদায়ক পোশাক বেছে নেওয়া জরুরি। হালকা রঙের, ঢিলেঢালা ও সুতি পোশাক পরিধানে শরীরে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং ঘামও দ্রুত শুকিয়ে যায়। ডায়াপার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় একই ডায়াপার পরে থাকলে শিশুর ত্বকে র‍্যাশ বা সংক্রমণ হতে পারে। তাই নিয়মিত ডায়াপার পরিবর্তন করে ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন। গরমের দিনে শিশুকে প্রতিদিন স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করানো যেতে পারে। অতিরিক্ত ঘেমে গেলে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর আলতো করে মুছে দিন।

ঘর ঠান্ডা রাখুন, রোদ এড়িয়ে চলুন

শিশুর থাকার ঘরে যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যান বা এসি ব্যবহার করা হলেও এর ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শিশুর শরীরে লাগানো ঠিক নয়। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে শিশুকে বাইরে না নেওয়াই ভালো। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে ছাতা ব্যবহার করুন এবং যতটা সম্ভব ছায়াযুক্ত জায়গায় অবস্থান করুন।

গাড়িতে একা রেখে যাবেন না

বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা খুব দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। তাই কোনো পরিস্থিতিতেই শিশুকে পার্কিং করা বা বন্ধ গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। অল্প সময়ের জন্যও এমন ঝুঁকি নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

যেসব লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি

গরমে শিশুর শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে

* শরীর অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যাওয়া

* ত্বক লালচে ও শুষ্ক হয়ে পড়া

* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হওয়া

* বারবার বা অনবরত বমি হওয়া

* অতিরিক্ত ক্লান্ত, দুর্বল বা নিস্তেজ হয়ে পড়া

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

গরমে শিশুকে সুস্থ রাখতে তাই শুধু তৃষ্ণা পেলেই পানি খাওয়ানো নয়, বরং খাবার, পোশাক, পরিচ্ছন্নতা, ঘরের পরিবেশ এবং বাইরে চলাফেরা সব ক্ষেত্রেই বাড়তি নজর রাখা দরকার। অভিভাবকের সামান্য সচেতনতাই গরমের দিনে শিশুর জন্য বড় সুরক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

বিষয়:গরম শিশু সুস্থ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…