বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ভারতীয় নারীকে খুঁজে বের করতে নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত।
ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো মমতাজ বেগম নামের এক নারীর সন্ধান পেতে কেন্দ্রীয় ও আসাম সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের গুয়াহাটি হাইকোর্ট। গত জুনে ওই নারীকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বর্তমান অবস্থান জানতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আগামী নভেম্বরে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে আসামের নগাঁওয়ের চার নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মমতাজ বেগমকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করার পর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে গোয়ালপাড়ার মাটিয়া আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়। জুনের মাঝামাঝি সময়ে তাকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মমতাজ বেগমের স্বামী হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস (খুঁজে বের করার) আবেদন করেন। এই আবেদনের মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ চাওয়া হয়।
মামলার শুনানিতে উঠে আসে, মমতাজ বেগম ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পাননি। ফলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হন।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের সারসংক্ষেপ তৈরির তারিখ নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শেষ হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শুনানিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী আদালতকে জানান, মমতাজ বেগমের সন্ধান পেতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হলফনামা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালেও মমতাজ বেগমকে বিদেশি নাগরিক ঘোষণা করেছিল সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল। তবে পরে হাইকোর্ট ওই রায় বাতিল করে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, নির্ধারিত দিনে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছিলেন মমতাজ বেগম। কিন্তু তার আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন আদালত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। মমতাজ বেগমের মামলাটিও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ও বহিষ্কারের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।






