বিনোদন

ভালো নেই ঘরবন্দি প্রবীর মিত্র

প্রায় অচল হয়ে গেছেন প্রবীর মিত্র, করতে হবে হাঁটুর অপারেশন

প্রবীর মিত্রের ছবি, বৃদ্ধ বয়সে চিন্তিত মুখাবয়ব. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রবীর মিত্রের ছবি, বৃদ্ধ বয়সে চিন্তিত মুখাবয়ব, ঘরবন্দি পরিস্থিতিতে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন দাপুটে অভিনেতা প্রবীর মিত্র। তার শারীরিক অবস্থা খুব বেশী ভালো নেই। প্রায় অচল হয়ে গেছেন। তার হাঁটুতে অপারেশন করতে হবে। চিকিৎসকরা এমনটাই পরামর্শ দিয়েছেন।

চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন প্রবীর মিত্রের ছেলের বউ সোনিয়া। তিনি বলেন, ডাক্তার হাঁটুর অপারেশনের কথা বলেছেন। তার পায়ের অবস্থা একটু ভালো হলে অপারেশনটা করাতে হবে। সাপোর্ট ছাড়া এখন হাঁটাচলা ও উঠে দাঁড়াতে পারেন না। এর বাইরে কিছুটা বাধর্ক্যজনিত সমস্যা আছে। চোখে বা কানে একটু কম শোনা এগুলো বয়সের কারণে হয়েছে।

আরও জানা যায়, প্রবীর মিত্র অনেক দিন ধরেই শারীরিক অন্যান্য জটিলতায় ভুগছেন। নতুন করে যোগ হয়েছে স্মৃতি ভুলে যাওয়ার সমস্যা। তিনি কিছু মনে করতে পারেন না। প্রবীর মিত্রের শ্রবণশক্তিও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। উচ্চস্বরে কথা বললে উত্তর দিতে পারেন। হৃদরোগের জটিলতাও রয়েছে।

গেল বছর প্রবীর মিত্র ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন অস্টিওপরোসিসে রোগের। তারপর তাকে কেমো দেয়া লাগে। নীরবে নিভৃতে ও একাকিত্বে ধানমন্ডিতে ছেলের বাসায় দিন কাটাচ্ছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা খ্যাত এ অভিনেতা। তার দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে টিভি দেখে। ঘরবন্দী থাকলেও মন পড়ে থাকে এফডিসি ও শুটিংয়ে।

প্রবীর মিত্রের ছেলে মিথুন মিত্র জানান, তার বাবার শ্রবণ শক্তি দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। সে কারণে তিনি ঠিকমত কানে শুনতে পান না। উচ্চস্বরে কথা বললে উত্তর দিতে পারেন। তবে তিনি ঠিকমত খাওয়াদাওয়া করতে পারেন।

স্কুলজীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। পরবর্তীতে পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে ‘জলছবি’ নামে একটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েছে বড়পর্দায় তার অভিষেক হয়। মূলত এ ছবিতে কাজের ব্যাপারে তার বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামানই তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ১৯৪০ সালে পুরনো ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।

‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চাবুক’-এর মতো সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে প্রবীর মিত্রকে। এছাড়া ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ সিনেমায় মূখ্য চরিত্রে ছিলেন তিনি। এ কারণেই অনেকে তাকে ঢাকাই সিনেমার ‘রঙিন নবাব’ বলে ডাকেন।

তার অভিনীত অনান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে- জীবন তৃষ্ণা, সীমার, তীর ভাঙা ঢেউ, প্রতিজ্ঞা, অঙ্গার, পুত্রবধূ, নয়নের আলো, চাষীর মেয়ে, দুই পয়সার আলতা, আবদার, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ ইত্যাদি।

কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮২ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান প্রবীর মিত্র। আর ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

বিষয়:অঙ্গার অভিনেতা এফডিসি টিভি টেলিভিশন নয়নের আলো

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…