গ্রেফতারকৃত গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান (৩৭) ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফিরোজ মাহমুদ হাসান (৪২) এর সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ আদালত।
বুধবার বেলা ১২ ঘটিকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়: গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ এবং আইনজীবী ও কয়েকজন সিবিএ নেতার যোগসাজশে তরিঘড়ি করে শতাধিক মামলা হতে গ্রামীণ টেলিকমকে ইনডেমনিটি দেয়ার জন্য বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ৪ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গ্রামীণ টেলিকম কর্মচারী ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান (৩৮)। মামলার অভিযোগে বলা হয় অবৈধ আর্থিক সুবিধা লাভের আশায় গ্রামীণ টেলিকমের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আইনজীবীদের যোগসাজমে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষের সাথে গোপন চুক্তি করে শ্রমিক কর্মচারীদের দায়েরকৃত মামলাসমূহ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করেন। পাশাপাশি লভ্যাংশ প্রদানের জন্য গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সেটেলমেন্ট একাউন্টে দেয়া ৪৩৭ কোটি টাকা হতে ২৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ইউনিয়নের একাউন্টে স্থানান্তর করেন। এ অর্থ হতে তিন শ্রমিক নেতা তিন কোটি করে নয় কোটি টাকা উঠিয়ে নেন এবং তাদের সহায়তাকারী আইনজীবী দু’জনকে ১৬ কোটি টাকা দেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ ০৫ জুলাই উক্ত মামলার আসামী মোঃ কামরুজ্জামান এবং ফিরোজ মাহমুদ হাসানকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে যে, গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার প্রলোভনের পাশাপাশি তাদেরকে হুমকি প্রদান করে যে, অতি শীঘ্রই বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলংকার মতো হবে এবং ক্ষমতার পট পরিবর্তনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস। তখন শ্রমিকদের দায়ের করা এসব মামলা কোন কাজে আসবে না এবং কেউ কোন ক্ষতিপূরণও পাবে না। বরং শ্রমিক নেতাদের জেল খাটাসহ নানাবিধ নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হবে। মূলত এই ভয়ে এবং অতিরিক্ত অর্থ প্রাপ্তির প্রলোভন থেকেই আইনজীবীদের পরামর্শে দ্রুততম সময়ে মামলা তুলে নিতে রাজি হয় শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ ও আইনজীবীদের তরফ হতে এই বিষয়ে কঠোর গোপয়নীয়তা অবলম্বনের নির্দেশনাও দেয়া হয়।
এদিকে ০৬ জুলাই গ্রামীণ টেলিকম ইউনিয়নের আইনজীবী মোঃ ইউসুফ আলী’র ১২ কোটি টাকা ফিস গ্রহণের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন ব্যরিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই পিটিশন দাখিল করা হয়। রিটে সংসদ সচিব, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বার কাউন্সিলের সচিব ও অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীকে বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে উক্ত রিট পিটিশনটির শুনানী হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।









