বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার এখনই উপযুক্ত সময়।
আজ (২২ জুন) সোমবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের শক্তিশালী সমর্থন নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এখন অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমবাজার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন। আশা করছি এই ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করা, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ও আলোচনায় তুলে ধরেন। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বিত অবস্থান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন গতি পাবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।







