বিশ্বকাপে একের পর এক বীরত্ব গেঁথেই চলেছেন গোলরক্ষকরা। দলকে আসরে টিকিয়ে রাখতে বেশ ভালোভাবেই ভূমিকা রেখেছেন কেপ ভার্দে, কুরাসাও এবং ইরানের গোলপ্রহরী। ভোজিনহা এবং এলোয় রুমের গোলপোস্টে কিছু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের দুর্দান্ত সব সেভে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রেখেছে ইরানকে। ফুটবলে দুটি গিনেস রেকর্ডের মালিকও ইরান গোলরক্ষক।
র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থাকা দল বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইরানকে গোলশূন্য ড্র এনে দিতে পোস্টরাজ্য একাই সামলেছেন আলিরেজা। তিন পয়েন্টের খোঁজে বেলজিয়াম যখন ইরানের উপর একের পর এক আক্রমণ চালায়, তখন ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা আলিরেজা ৭টি সেভ করেন। ম্যাচজুড়ে বেলজিয়ানদের সব কয়টি লক্ষ্য বরাবর শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। ক্লিন শিট ধরে রেখে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের ট্রফিও জেতেন।
তার জীবনের শুরুটা ইরানের লোরেস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এক যাযাবর কুর্দি পরিবারে। সেখানে জন্ম, শৈশব কেটেছিল চরম দরিদ্রে। শৈশব কাটিয়েছিলেন ডালপারান নামের একটি স্থানীয় খেলা খেলে, যেখানে ভেড়া রক্ষার জন্য বিশাল দূরত্বে ভারী পাথর ছুঁড়তে হতো। কাজটি তার শরীরের উপরের অংশে এমন এক গঠন তৈরি করেছিল, যা আধুনিক ফুটবলে আগে কখনো দেখা যায়নি। যার ফলে তিনি দুটি ভিন্ন কৃতিত্বের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী হয়েছেন।
ফুটবলে এযাবৎকালের দীর্ঘতম নিক্ষেপ, যা ২০১৬ সালের অক্টোবরে সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে গড়েছেন। ম্যাচে তিনি ২০০.১৪ ফুট (৬১.০০২ মিটার) দূরত্বে বল নিক্ষেপ করেছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘতম ড্রপ কিকটিও তার। ২০১৯ সালে গিনেসের অধীনে গড়া তার কিকটির দূরত্ব ছিল ২৫৫.৯৫ ফুট (৭৮.০১৪ মিটার)। আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক এডেরসন, যিনি ২০১৮ সালে ২৪৭ ফুট ২ ইঞ্চি (৭৫.৩৫ মিটার) দূরত্বের একটি ড্রপ কিক নিয়েছিলেন।







