ভিয়েতনামের পর এবার ফ্রান্সে রাফির ‘অলৌকিক রাজহাঁস’
ফ্রান্সের নতে ৪৮তম ফেস্টিভ্যাল দে থ্রি কন্টিনেন্টস-এর সঙ্গে আয়োজিত হবে এবারের ‘প্রোদুইর ও সুদ’

বাংলাদেশি তরুণ নির্মাতা রাজীব রাফির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রকল্প ‘অলৌকিক রাজহাঁস’ (Golden Swan) নির্বাচিত হয়েছে ফ্রান্সের নতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র কর্মশালা ‘প্রোদুইর ও সুদ’-এ। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে নির্বাচিত মাত্র পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রকল্পের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের এই সিনেমাটি।
২২ থেকে ২৮ নভেম্বর ফ্রান্সের নতে ৪৮তম ফেস্টিভ্যাল দে থ্রি কন্টিনেন্টস-এর সঙ্গে আয়োজিত হবে এবারের ‘প্রোদুইর ও সুদ’। কর্মশালায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেবেন নির্মাতা রাজীব রাফি ও প্রযোজক আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ।
আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর নির্মাতা ও প্রযোজকেরা চিত্রনাট্য উন্নয়ন, অর্থায়ন কৌশল এবং আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রযোজক ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও তৈরি হয়।
প্রযোজনা সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছর ‘অলৌকিক রাজহাঁস’-এর এটি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নির্বাচন। এর আগে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত চতুর্থ দা নাং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘ডানাফ ট্যালেন্টস প্রজেক্ট ইনকিউবেটর’-এ নির্বাচিত হয়েছিল প্রকল্পটি।
ওই ইনকিউবেটরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৫০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে এশিয়ান আর্ট-হাউস ওয়ার্কশপ ও প্রজেক্ট মার্কেটের জন্য ১০টি প্রকল্প নির্বাচন করা হয়। সেই তালিকায় ছিল ‘অলৌকিক রাজহাঁস’। ২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই দা নাংয়ে অনুষ্ঠিত আয়োজনে প্রকল্পটির দল প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জুরির সামনে সিনেমাটি উপস্থাপন করে। প্রজেক্ট মার্কেটে সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তারা।
বাংলাদেশের একটি লোককাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘অলৌকিক রাজহাঁস’। তবে প্রচলিত গল্পকে হুবহু অনুসরণ না করে সমকালীন দর্শকের উপযোগী করে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে গল্পটি বলার চেষ্টা করছেন নির্মাতা। বর্তমানে সিনেমাটির চিত্রনাট্য উন্নয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনা ও অর্থায়নের জন্যও কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘অলৌকিক রাজহাঁস’ প্রযোজনা করছে খনা টকিজ। সিনেমাটির প্রযোজক আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ, রুবাইয়াত হোসেন ও আশিক মোস্তফা।
আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার উদীয়মান নির্মাতা ও প্রযোজকদের আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনার জন্য প্রস্তুত করতে ২০০০ সালে ‘প্রোদুইর ও সুদ’ চালু করে নতের ফেস্টিভ্যাল দে থ্রি কন্টিনেন্টস। কর্মশালাটিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্প পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও বাজারে জায়গা করে নিয়েছে।





