সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে শায়িত হবেন কিংবদন্তী গীতিকার, সুরকার, চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এমনটাই জানা গেছে তার পারিবারিকসূত্রে।
গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ভাগ্নে উপস্থাপক, অভিনেতা ও নির্মাতা শাহরিয়ার নাজিম জয় জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ১১টায় এই গীতিকারকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেয়া হবে শহীদ মিনারে। এরপর তাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেয়া হবে এফডিসিতে। সেখানে হবে প্রথম জানাজা।
জয় জানান, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তিনি বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে।
আজ রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
জানা গেছে, গত কয়েক দিন থেকে অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। আজ সকালে অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল।
বিশ হাজারেরও বেশি গানের গীতিকার তিনি। যার অসংখ্য গান মানুষের মুখেমুখে। তারমধ্যে অন্যতম জয় বাংলা বাংলার জয়, একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল, একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, জন্ম আমার ধন্য হলো’র মতো দেশাত্মবোধক গান যেমন আছে, তেমনি সিনেমার জন্য আছে গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে, আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল, যার ছায়া পড়েছে, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, ও পাখি তোর যন্ত্রণা, ইশারায় শীষ দিয়ে, চোখের নজর এমনি কইরা, এই মন তোমাকে দিলাম -এর মতো কালোত্তীর্ণ আধুনিক গান।
বিবিসি বাংলা তৈরিকৃত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় রয়েছে তার লেখা তিনটি গান।
১৯৪৩ সালের ফেব্রয়ারিতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাজহারুল আনোয়ার। ষাটের শুরুতে গান লেখার হাতেখড়ি। ১৯৬৪ সালে রেডিও পাকিস্তানে গান লিখে ৫০ টাকা আয়ের মাধ্যমে তার পেশাদার গীতিকার জীবন শুরু। আর ১৯৬৫ সালে যুক্ত হন চলচ্চিত্রের সাথে। সুভাষ দত্তের ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ ছবিতে ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’ গানটি দিয়ে চলচ্চিত্রের গান লেখা শুরু গাজী মাজহারুল আনোয়ারের।
শুধু গীতিকার হিসেবে নন, তিনি একজন সফল কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালকও। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘দেশ চিত্রকথা’। তার প্রযোজিত ও পরিচালিত ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম শাস্তি, স্বাধীন, শর্ত, সমর, শ্রদ্ধা, ক্ষুধা, স্নেহ, তপস্যা, উল্কা, আম্মা, পরাধীন, আর্তনাদ,পাষাণের প্রেম, এই যে দুনিয়া।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৫ বার গীতিকার হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়াও ২০০২ সালে একুশে পদক, ২০২১ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক, এস এম সুলতান স্মৃতি পদক, একাধিকবার বাচসাস পদক সহ অসংখ্য পুরস্কার রয়েছে তার অর্জনে।










